নীলফামারীতে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ ও নেসকোর আওতাধীন এলাকাগুলোতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিদ্যুৎ নির্ভর শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একইসঙ্গে সেচ কাজে বিদ্যুৎ না পাওয়ায় কৃষকরা তাদের ফসলের উৎপাদন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পরিস্থিতি এতটাই অবনতির দিকে যে, জেলার ছয়টি থানায় বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৮০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট। এই বিশাল ঘাটতির ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কারখানা মালিকরা উৎপাদন সচল রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করলেও এতে জ্বালানি ব্যয় ও পণ্যের উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে, যার ফলে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
কৃষিপ্রধান এলাকা যেমন ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর ও সদর উপজেলায় সেচ পাম্প চালাতে গিয়ে কৃষকরা হিমশিম খাচ্ছেন। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারলে বোরোসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন মার খাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। তীব্র গরমের মধ্যে দিনের বেলা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের কষ্টের সীমা নেই। রাতের বেলাতেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমান সংকট নিয়ে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শেখ মনোয়ার মোর্শেদ জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়াই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। জাতীয় পর্যায়েও বিদ্যুৎ ঘাটতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, নেসকো নির্বাহী প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার রায় জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ কম থাকায় সাময়িক এই সমস্যা হচ্ছে এবং কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।





