দিল্লি হাইকোর্ট ও বিমানবন্দরে বোমা হামলার হুমকি, নিরাপত্তা জোরদার

প্রকাশ:

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের ঠিক একদিন আগে দিল্লি হাইকোর্ট ও বিমানবন্দরসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। দিল্লি ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ইমেইল, ফোনকল ও বিভিন্ন বার্তার মাধ্যমে এই হুমকিগুলো এসেছে। শুক্রবার ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

হুমকির খবর পাওয়ার পর দিল্লি হাইকোর্টের রেজিস্ট্রি জেনারেল তাৎক্ষণিকভাবে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আদালত চত্বরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

‘খালিস্তান’ নামে পাঠানো একটি হুমকিমূলক ইমেইলে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে। ‘ব্লাস্ট দিল্লি হাইকোর্ট @২:১১ পিএম’ শিরোনামের ওই ইমেইলে দাবি করা হয়, শনিবার দুপুর ২টা ১১ মিনিটে দিল্লি হাইকোর্টে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। এর এক ঘণ্টা পর বিভিন্ন জেলা আদালতেও বিস্ফোরণ ঘটানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। ইমেইলটিতে আরও দাবি করা হয়, দিল্লির আদালতগুলোতে শিখদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার প্রতিক্রিয়ায় এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘খালিস্তান’-এর সদস্যরা ইতোমধ্যে দিল্লিতে পৌঁছেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

দিল্লি হাইকোর্ট ও ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ ছাড়াও জামনগর হাউজ, ঝাণ্ডেওয়ালান ফ্ল্যাটেড ফ্যাক্টরি কমপ্লেক্স, এমবি সাকেত অফিস/ডিএম অফিস এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের (এসডিএম) কার্যালয়ে একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দিল্লি মেট্রো এবং আমবালাগামী ট্রেনেও হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।

দিল্লি হাইকোর্টের যুগ্ম সচিব অ্যাডভোকেট কুণাল এএনআইকে জানান, হুমকিটি প্রাথমিকভাবে ভুয়া বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আদালত প্রাঙ্গণে তল্লাশি চলছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের হুমকি পাওয়া যায়নি।

দিল্লি ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, হুমকির খবর পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠানো হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি অব্যাহত রেখেছেন। স্বাধীনতা দিবস সামনে রেখে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন