জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় একটি ফেরিডুবির ঘটনায় অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার এই দুর্ঘটনার পর থেকে দেশটির পুলিশ ব্যাপক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেরিটিতে ৯০ জন যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু বহনের সক্ষমতা ছিল। তবে নৌযানটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন তা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। সিভিল প্রটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) জানিয়েছে, টিকিট বিক্রির নিবন্ধিত হিসাব অনুযায়ী ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ছিলেন, তবে টিকিট কাটার বয়স হয়নি এমন শিশুদের সংখ্যা জানা যায়নি। এছাড়া হ্রদ কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ১২ শিশুসহ নৌযানটিতে প্রায় ১২০ জন যাত্রী ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, শক্তিশালী ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটি ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পানির ওপর উল্টে থাকা ফেরিটির কাঠামো দেখা গেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুতসা মুরোমবেদজি দুর্ঘটনার আগে ধারণ করা ফেরিটির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন এবং যাত্রীদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় পাঁচ ঘণ্টার দূরত্বের কারিবা শহরে যাওয়ার জন্য হ্রদটি পার হচ্ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর এখন পর্যন্ত ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে প্রাথমিকভাবে ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ম্যাক্সটন কানহেমা এএফপিকে জানিয়েছেন, খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে ফেরিটি যাত্রা করেছিল এবং বড় ঢেউয়ের আঘাতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পানিতে মরদেহ ভাসতে দেখা গেছে এবং উদ্ধারযোগ্যদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।
জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া এই ঘটনায় রাষ্ট্রীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন এবং উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে সব ধরনের সম্পদ ও জনবল ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড্যানিয়েল গারওয়ে জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর নৌযান ইউনিট, পুলিশের ডুবুরি দল এবং একটি বেসরকারি হেলিকপ্টার উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। লেক কারিবা জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তজুড়ে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম জলাধার। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে এবং যাত্রী বহনের সক্ষমতা ও প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।





