একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো ও বিতর্কিত পরিচালকদের ব্যাংকে ফেরার সুযোগ দিয়ে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনে যুক্ত করা বিতর্কিত ১৮(ক) ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ধারা বাতিলের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শর্ত মেনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় সরকার ধারাটি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আর্থিক অনিয়মের কারণে সংকটে পড়া পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে একটি ব্যাংক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই একীভূতকরণ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারও বজায় রেখেছে। গত ১০ এপ্রিল ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার সময় ১৮(ক) নামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছিল। এই ধারায় বলা হয়েছিল, রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শেয়ারধারকরা চাইলে পুনরায় সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এই সুযোগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখত।
এই ধারাটি যুক্ত করার পর থেকেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট অধিবেশনে ধারাটি বাতিলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই ধারাটি বিলুপ্ত করার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন এই সংশোধনী চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
সরকারের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আবেদন না পাওয়ার অজুহাতে ধারাটি বাতিল করা যৌক্তিক নয়। তিনি মনে করেন, যেসব বিতর্কিত পরিচালকরা ব্যাংক লুটপাট করেছেন, তাঁদের ফেরত আসার সুযোগ রাখাটাই ছিল ভুল। শরীফ জহির, যিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান, তিনি এই বাতিলের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি জানান, পুরোনো বিতর্কিত মালিকদের ফেরানোর বিষয়টি সাধারণ মানুষও ভালোভাবে নেয়নি।
উল্লেখ্য, একীভূত হতে যাওয়া এই পাঁচটি ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা, যা ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৭৯ শতাংশ। এর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৯৮ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৬ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামীর ৯৫ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামীর ৬২ শতাংশ এবং এক্সিম ব্যাংকের ৪৮ শতাংশ। এক্সিম ব্যাংকটি নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলাম মজুমদারের এবং বাকি চারটি ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল।





