নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরুদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনব্যাপী রূপগঞ্জের যাত্রামুড়া ও ভুলতাসহ বিভিন্ন এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অগ্রণী প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এই অঙ্গীকার করেন।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকারি নদী, নালা, খাল, বিল ও জলাশয় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দখল করে রাখতে পারবে না। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দখলদার যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দখল ও ভরাটের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে জলপথের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে জলাবদ্ধতা বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই পর্যায়ক্রমে এসব জলপথ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, দেশের প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খালের ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা ও শিল্পকারখানা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট দখল হওয়া জলপথগুলোও পুনরুদ্ধার করা হবে।
পরিদর্শনকালে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয় ভরাট ও খাল দখলের কারণে রূপগঞ্জের কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একসময় এই এলাকায় ব্যাপক ধান উৎপাদন হতো, কিন্তু দীর্ঘদিনের দখল ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নষ্ট হওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, খালগুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জয়, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক খোকন, তারাবো পৌর বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল মতিন ভূঁইয়া ও যুবদল নেতা মামুনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকে দিনব্যাপী রূপগঞ্জের যাত্রামুড়া, ভুলতাসহ বিভিন্ন এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অগ্রণী প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।





