ঘুন পোকার গুঁড়োতেই মিলল ক্লু, ১৬ ঘণ্টায় খুনের রহস্য উন্মোচন

প্রকাশ:

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়নের হরিণপালা এলাকায় ইসমাইল শরীফ (৬০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ১৬ ঘণ্টায় উন্মোচন করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগম ও তাদের তিন ছেলে রুবেল শরীফ, রুমান শরীফ এবং রাসেল শরীফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান গতকাল রোববার রাতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রোববার সকাল ৬টার দিকে স্থানীয়রা নদীর বেরিবাঁধের পাশে ইসমাইল শরীফের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং তদন্ত শুরু করে। শুরুতে এটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড মনে হলেও সুরতহাল ও মরদেহের ছবি বিশ্লেষণের সময় তদন্তকারীদের চোখে পড়ে নিহতের মাথা ও কানের পাশে লেগে থাকা কাঠখেকো ঘুন পোকার গুঁড়ো। এই সামান্য আলামত থেকেই পুলিশের সন্দেহ হয় যে, হত্যাকাণ্ডের মূল ঘটনাস্থল বেরিবাঁধ নয়, বরং কোনো কাঠের ঘর বা স্থাপনা।

তদন্তের এক পর্যায়ে ইসমাইল শরীফের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বারান্দার চালার বাঁশ ও কাঠের গুঁড়ো এবং মাটির মেঝেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন ও রক্তের দাগ খুঁজে পায়। নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তাকে নিজের ঘরেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে মরদেহ বেরিবাঁধে ফেলে রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে নিহতের ছোট ছেলে রাসেল শরীফ অপরাধ স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘরের বারান্দার খাটের নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা কুঠার উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগমের শরীরেও রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ ও মারামারি হতো। নিহতের ছোট ভাই জয়নাল শরীফ বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শেয়ার করুন