তিন পার্বত্য জেলায় খাদ্য গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের

প্রকাশ:

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে পাহাড়ি জনপদে খাদ্য সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তিন পার্বত্য জেলায় নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হবে। সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকার মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এবং নতুন গুদাম নির্মাণ সেই উদ্যোগেরই অংশ।

তথ্য উপদেষ্টা ব্যাখ্যা করেন, বর্ষা মৌসুম, ভূমিধস বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিকূল হয়ে পড়ে, যা খাদ্য পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করে। নতুন গুদাম নির্মাণের ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে খাদ্য মজুত ও সরবরাহ সহজ হবে এবং দুর্গম এলাকার মানুষ দ্রুত খাদ্য সহায়তা পাবেন।

ব্রিফিংয়ে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের ৫৫ লাখ গ্রামীণ দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারকে প্রতি মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমলেও সরকার এটিকে শিক্ষার মানোন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখছে। অতীতে শুধু পাসের হার বাড়ানোর প্রবণতা থাকলেও বর্তমান সরকার শিক্ষার প্রকৃত মান নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

স্বাস্থ্যখাতের বিষয়ে তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সম্প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে একজন চিকিৎসককে বরখাস্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সরকারি চিকিৎসকদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, বিমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বিদেশে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে না পাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে পাঠাতে হয়েছে। একই সঙ্গে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত জটিলতায় যাত্রীরা বিমানবন্দরের বাইরে যেতে না পারায় ভোগান্তির শিকার হন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গণ-অভ্যুত্থান জাদুঘর প্রসঙ্গে তিনি জানান, উদ্বোধনের শুরুতে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে কিছু ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা দেখা দিলেও তা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে এবং বর্তমানে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে জাদুঘর পরিদর্শন করছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের ২২টি পরমাণু চিকিৎসা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে ৮২ হাজার ৩৭৬ জন রোগীকে পিইটি-সিটি স্ক্যান, থাইরয়েড স্ক্যান, রেডিওথেরাপি, বোন মিনারেল ডেনসিটি ও আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ আধুনিক সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যের তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার আওতায় ২ হাজার ৪১টি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি জানান, ঢাকা মহানগরীসহ দেশের ১৩টি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মাঠ সংরক্ষণ, দখলমুক্ত করা এবং নতুন মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল ডিভাইস নির্ভরতা কমিয়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। সবশেষে তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা নিশ্চিত করে একটি মানবিক ও টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

শেয়ার করুন