রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এ হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানান।
বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আক্রমণের শিকার হয়েছেন, যা ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মানববন্ধনে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলে তাদের ছাত্রত্ব বাতিল এবং যারা পড়াশোনা শেষ করেছেন তাদের সনদ বাতিলের দাবি জানানো হয়। এছাড়া ক্যাম্পাসে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম ধ্রুব ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হামলার আগে হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। হামলার পর সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে প্রক্টরের কাছে গিয়েও কার্যকর সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করলে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
বিভাগের অধ্যাপক আ. আল মামুন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হবে তা অপ্রত্যাশিত। তিনি নতুন বাংলাদেশে সাংবাদিকদের স্বাধীন ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে বলেন, সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হলে জাতি অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।
বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আহত হতে হয়েছে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের আয়না হিসেবে কাজ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাষ্ট্রের এই আয়না যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি তিনি আহ্বান জানান।





