১২ শিক্ষার্থীর ১৩ শিক্ষক, এসএসসিতে পাস মাত্র একজন

প্রকাশ:

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার এস.জিএস. সেকেন্ডারি বিদ্যালয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ১২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। অথচ বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য রয়েছেন ১৩ জন শিক্ষক। শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মচারী মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১৮ জন জনবল কর্মরত আছেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে ক্লার্ক ও পিয়নসহ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন পাঁচজন।

বিদ্যালয়টির এমন ফলাফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। কাগজে-কলমে শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঁচ-ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখা যায় না। সরেজমিনে দেখা যায়, ক্লাস চলাকালীন অনেক শিক্ষার্থী মাঠে ফুটবল খেলছে, ছাত্রীদের অধিকাংশই বিদ্যালয়ে নেই এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশও অনুপস্থিত।

স্থানীয়দের মতে, একসময় বিদ্যালয়টির ফলাফল ভালো ছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে শিক্ষক সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার মান সেই অনুপাতে বাড়েনি। বিদ্যালয়টি নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি হয়ে যাওয়া এবং শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। গত বছর ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ছয়জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে পাস করেছিল তিনজন।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার জানান, বিদ্যালয়ের ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, যার ফলে অভিভাবকরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনাগ্রহী। শ্রেণিকক্ষে আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস নিতে হয় বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত উপস্থিত না হওয়ায় পড়ালেখার মান ও ফলাফল খারাপ হয়েছে। তবে ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থীদের মাঠে খেলাধুলা করা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটির বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। তিনি কেবল জানান, উপজেলা পর্যায়ে খেলাধুলা চলায় শিক্ষার্থীরা মাঠে রয়েছে।

এ বিষয়ে ঝালকাঠির জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ বলেন, বর্তমানে তিনি ঢাকায় আছেন এবং পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা কেন ফেল করেছে তা তিনি খতিয়ে দেখবেন। স্থানীয়রা এখন বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার এমন ফলাফলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

আর এবার ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১২ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন।

শেয়ার করুন