ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে কর্মরত গৃহকর্মীদের সঙ্গে চিৎকার, গালিগালাজ এবং দুর্ব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আনাদোলু এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েলি দৈনিক 'ইয়েদিওথ আহরোনথ' সাবেক কর্মচারীদের ডজন খানেক সাক্ষ্য এবং মামলার নথি পরীক্ষা করে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এসব অভিযোগে মৌখিক নির্যাতন, অপমান এবং অতিরিক্ত কাজের চাপের মতো নানা বিষয় উঠে এসেছে। যার কোনোটিতে আদালত ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন, আবার কোনোটি আদালতের বাইরে মীমাংসা বা খারিজ হয়েছে। তবে সারা নেতানিয়াহু এবং তার আইনজীবীরা বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে একটি "মিডিয়া ক্যাম্পেইন" এবং রাষ্ট্র থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।
সাবেক ও বর্তমান কর্মচারীদের অভিযোগের মধ্যে গত এক বছরে কর্মরত ইয়েহিয়েল ওহাভ আমি (৬১) দাবি করেন যে, তাকে চিৎকার ও গালিগালাজের শিকার হতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে হামাগুড়ি দিয়ে রান্নাঘরের মেঝে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও জানান, সারা নেতানিয়াহু তার ক্যান্সার ও মৃত্যু কামনা করেছিলেন এবং নিজেকে দেশের ১ নম্বর সাইকিয়াট্রিস্ট দাবি করে তাকে অটিস্টিক বলে অপমান করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীকে কালিমালিপ্ত করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে। এছাড়া সারা নেতানিয়াহু ওই কর্মীর বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে বাসভবনের ছবি তোলা ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের পাল্টা মামলা করেছেন।
এর আগে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেরুজালেম আঞ্চলিক শ্রম আদালত বাসভবনের সাবেক ম্যানেজার মেনি নাফতালিকে চরম প্রতিকূল কাজের পরিবেশের শিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আদালত তাকে ১,৭০,০০০ শেকেল বা ৫৬,৬৭০ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়, যা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ছিল। একই বছর রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী গাই এলিয়াহুর মামলার প্রেক্ষিতেও আদালত তার পক্ষে রায় দেয়। এলিয়াহু জানান, তাকে দিনে ১৯ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হতো এবং মাঝরাতে শুধুমাত্র এক বাটি স্যুপ গরম করা বা "শুভ রাত্রি" বলার জন্য তাকে ডেকে পাঠানো হতো।
শেফ ইতি হাইম অভিযোগ করেন, হাত না ধুয়ে কেবিনেট খোলার কারণে সারা তার হাতে চড় মেরেছিলেন এবং টেবিলক্লথ টেনে ফেলে দিয়ে তা আবার সাজানোর নির্দেশ দিতেন। এছাড়া শিরা রাবান (২৪) নামের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী তাকে "দাসী"র মতো আচরণ করার অভিযোগ তুললে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় মামলাটি খারিজ করে দেয়। ২০২০ সালে সিলভি গ্যান্সিয়া একটি ইস্ত্রি ছুড়ে মারার অভিযোগ তুললেও মামলাটি খারিজ হয়ে যায় এবং পাল্টা মামলায় গ্যান্সিয়াকে প্রায় ১,০০,০০০ শেকেল জরিমানা করা হয়। ২০২৪ সালের যৌথ মামলায় শ্রম আদালত তিনজন সাবেক কর্মীকে ওভারটাইমের টাকা না দেওয়া ও ছুটির দিনে কাজ করানোর অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে প্রায় ৯,০০,০০০ শেকেল বা ৩,০০,০০০ ডলার প্রদানের নির্দেশ দেয়। সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিলে এক কর্মী অভিযোগ করেন যে, নাস্তায় পেঁয়াজ ও টমেটোর পরিমাণ নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে সারা তার দিকে টমেটো ও জলপাই ছুড়ে মেরেছিলেন। পরবর্তীতে একটি গোপন চুক্তির মাধ্যমে ওই মামলাটি নিষ্পত্তি হয়।
পরবর্তীতে সারার দায়ের করা একটি পাল্টা মামলায় গ্যান্সিয়াকে প্রায় ১,০০,০০০ শেকেল (৩৩,৩৪০ ডলার) এবং আইনি খরচ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।





