জুলাই সনদ বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল বর্তমানে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ নয়, বরং এর সাথে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক অঙ্গীকার, গণভোটের রায় এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভবিষ্যৎ সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জড়িয়ে আছে।
বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দৃশ্যমান। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান এবং এনসিপির নেতৃত্বকে ছাড়াই সংবিধান সংস্কার বিষয়ে আয়োজিত প্রথম বৈঠক মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং বিরোধী দলের অভিযোগ বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে, বিরোধী দলের দাবি, সরকারের কথার সাথে কাজের মিল নেই।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ২০২৪ সালের পরিবর্তনের আগে রাজনীতিবিদদের কণ্ঠে যে সুর ছিল, ৫ আগস্ট এবং ১২ ফেব্রুয়ারির পর তা ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। তিনি গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে জনগণের অভিপ্রায়কে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, সরকারি দলকেও জনগণের রায় মেনে নিতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই বছর আগে যে ঐক্যের ভিত্তিতে গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়েছিল, তাতে এখন স্পষ্ট ফাটল দেখা দিয়েছে। এই বিভক্তি দীর্ঘস্থায়ী হলে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া জটিল হওয়ার পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সংবিধান সংস্কার ও সংশোধনের বিতর্কে আবেগের চেয়ে আইনি স্পষ্টতা প্রয়োজন। কোন প্রস্তাব বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য এবং কোনটির জন্য নতুন ব্যবস্থার প্রয়োজন, তা জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি। জুলাই সনদের বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দলকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হিসেবে কাজ করতে হবে। সরকারের দায়িত্ব হলো বিরোধী দলের সংশয় দূর করা এবং বিরোধী দলের কাজ কেবল অভিযোগ না তুলে বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সামনে আনা। জুলাইয়ের চেতনা যদি পরিবর্তনের চেতনা হয়, তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাই হবে এর বড় পরীক্ষা।





