স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতা উপল বখতের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা

প্রকাশ:

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ উপল বখত হাশেমীর স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাদ আসর রাজধানীর মিরপুরে সাংবাদিক আবাসিক এলাকার মসজিদুল ফারুক ও প্রয়াত উপলের বাসভবনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা সৈয়দ উপল বখতের বর্ণাঢ্য জীবন, সংগ্রাম এবং ছাত্র আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরেন। সভা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সভায় প্রয়াত উপলের পিতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত হাশেমী, নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার হোসেন, জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী, ব্যবসায়ী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এর আগে গত সোমবার দুপুর একটার দিকে রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনে ৫৯ বছর বয়সী উপল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পথচারীরা তাকে দ্রুত রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ছাত্ররাজনীতি ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহযোদ্ধাদের মতে, তার মৃত্যু একজন সাবেক ছাত্রনেতার বিদায়ের চেয়েও বেশি কিছু, এটি আশির দশকের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী উপল বখত আশির দশকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৯০-এর এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি রাজপথের সামনের সারির একজন সংগঠক ও কর্মী ছিলেন। তার রাজনৈতিক জীবনের একটি ব্যতিক্রমী দিক ছিল পারিবারিক ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য। তার বাবা সৈয়দ দিদার বখত তৎকালীন এরশাদ সরকারের মন্ত্রী হলেও, উপল বখত সেই সরকারের বিরুদ্ধেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সহযোদ্ধাদের ভাষ্যমতে, তিনি কখনও বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ের ছায়ায় নিজেকে পরিচিত করেননি, বরং নিজের আদর্শ ও রাজনৈতিক বিশ্বাসকেই ধারণ করেছিলেন।

শেয়ার করুন