২১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক মীমাংসার সুযোগ দেখছেন না ডা.

প্রকাশ:

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক মীমাংসা বা রিকনসিলিয়েশন করা সরকারের পক্ষে কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, রিকনসিলিয়েশনের ধারণাটির প্রতি সরকারের কোনো দ্বিমত নেই এবং এটি প্রয়োজনীয় ছিল কি না—তা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থনকারী সাধারণ নাগরিক ও দলের কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বা সমঝোতা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারত, যা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর হতো। একটা রিকনসিলিয়েশন দরকার ছিল—এই আলাপগুলো ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা প্রচুর করেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ দেশের একটা সংখ্যার মানুষ, আমি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী যারা পালিয়ে গেছেন তাদের কথা বলছি না। যারা এদেশে আছেন, এদের মধ্যে একটা পারসেন্টেজ, পারসেন্টেজটা কত। সুতরাং এই মানুষগুলোকে বা যারা আওয়ামী লীগ অ্যাকটিভলি করেছেন, তাদের সঙ্গে একটা রিকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া না। ফান্ডামেন্টালটা, আমরা সাউথ আফ্রিকায় যখন দেখেছি, কী হয়েছিল আসলে।

তবে মীমাংসার পথে মূল বাধা কোথায়, সে সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দেন ডা. জাহেদ। তিনি বলেন, রিকনসিলিয়েশনের মূল ভিত্তি বা আদি শর্ত হলো অপরাধের স্বীকৃতি এবং অনুশোচনা। অতীতে দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপ থাকা সত্ত্বেও অপরাধের ধরন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুযোগ দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন।

উপদেষ্টা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে এখনো আওয়ামী লীগ এবং দলটির প্রধান নেত্রীর পক্ষ থেকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গঠনের পর থেকেই তাদের বিভিন্নভাবে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এমন কঠোর ও আক্রমণাত্মক অবস্থানের কারণে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রিকনসিলিয়েশনের প্রস্তাবটি গ্রহণ করা সরকারের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান। দলের নেতাকর্মী ও নেতৃত্বের অসহযোগিতামূলক মনোভাবই কার্যত এই রাজনৈতিক সমঝোতার পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে বলেও তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা খুব অবাক হয়ে পাঁচ তারিখের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেখছি, সেই দলটা, সেই দলটার প্রধান নেত্রী তিনি এখনো…আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছেন। কোন ভিত্তির ওপরে দাঁড়িয়ে রিকসিলিয়েশন হয়।

শেয়ার করুন