বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপির কপাল খারাপ। তিনি বলেন, দলটি উত্তরাধিকার সূত্রে যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই তাদের একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর এসে দাঁড়াতে হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল হলিডে ইন-এ টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গত সরকার বিদ্যুৎ খাতে কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে এ খাতকে ধ্বংস করেছে এবং ব্যাংকগুলোকেও শেষ করে দিয়েছে। এছাড়া গত সরকার কোনো গ্যাস এক্সপ্লোরেশন না করে আমদানি-নির্ভর ব্যবস্থা তৈরি করেছে। বর্তমানে এই খাতগুলোকে ঠিক করতে বর্তমান সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের চর্চা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্র মূলত একটি সংস্কৃতি। মানুষের চিন্তাভাবনা ও চলাফেরার মধ্যে এর প্রতিফলন না থাকলে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তিনি দেশে পরমতসহিষ্ণুতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের সমালোচনা করার পাশাপাশি তাদের কাজ করার সুযোগও দিতে হবে। এছাড়া গণমাধ্যমকে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো মজবুত করার তাগিদ দেন তিনি।
সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল বলেন, গণতন্ত্র কেবল ভোটাধিকার নয়, বরং ক্ষমতার জবাবদিহি ও নাগরিকের সত্য জানার অধিকারের ওপরই এর স্থায়িত্ব নির্ভর করে। তিনি গত দেড় দশকে রাজনৈতিক চাপ ও ডিজিটাল আইনের প্রয়োগের কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাহীনতার কথা তুলে ধরেন এবং গণমাধ্যমকে সরকারের মুখপত্র না ভেবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগঠনের অংশীদার হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন যমুনা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ তৌহিদুল ইসলাম, এনটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক কাঞ্চন, মাইটিভির প্রধান সম্পাদক মাহমুদ আল হাসান, মোহনা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক রাশেদুল হক, স্টার টেলিভিশনের সিইও মোকসেদুল করিম বাবু, এখন টেলিভিশনের সিইও আখতারুজ্জামান বাবু, মারুফ কুমার খান সোহেল এবং ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।





