তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান আজ শুক্রবার একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করতে যাচ্ছে বলে দুটি আঞ্চলিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের জেদ্দায় আয়োজিত একটি সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। তবে চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট শর্ত বা বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এই তিন নেতা বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। এএফপিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলছিল এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলি এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। গত মাসে ইস্তাম্বুলে এরদোয়ান ও শাহবাজ শরিফের বৈঠকের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তারা এমন প্রতিটি পদক্ষেপকে সমর্থন করেন যা অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে অবদান রাখে। সে সময় তিনি বর্তমান ইসরায়েলি সরকারকে যুদ্ধের প্রতি আসক্ত বলে আখ্যা দিয়ে অঞ্চলটিকে নতুন করে রক্তপাতের দিকে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে প্রায় এক বছর আগে পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। বিশ্বের নয়টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের একটি হলো পাকিস্তান। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, দুই দেশের যেকোনো একটির ভূখণ্ডে হামলা হলে তা উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সেই চুক্তিতে সই করেছিলেন। সে সময় এই পদক্ষেপকে ইসরায়েলের প্রতি একটি বার্তা হিসেবে দেখা হয়েছিল, কারণ ইসরায়েল কাতারের ওপর একটি নজিরবিহীন হামলা চালানোর এক সপ্তাহ পর চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। একই সময়ে এমন প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী একমাত্র দেশ পাকিস্তান।
এদিকে, ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী কর্তৃক সৌদি আরবের নাজরান শহরে চালানো সাম্প্রতিক হামলায় ১১ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের পক্ষে লড়াই করা সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে সৌদি বেসামরিক নাগরিক ছাড়াও ইয়েমেনি, মিসরীয় ও পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন নারী এবং চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে, যার আঘাত মাঝারি মাত্রার। এই হামলার আগে সৌদির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে একাধিক গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পাওয়া গিয়েছিল। এসব সতর্কবার্তায় অর্থনৈতিক ও বেসামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর এবং বিমানবন্দরকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।





