কারও কান্না দেখলে সান্ত্বনা দেওয়ার সঠিক উপায় কী

প্রকাশ:

চোখের সামনে কেউ কান্নায় ভেঙে পড়লে অনেকেই অস্বস্তিতে পড়ে যান। কী বলবেন, কী করবেন, তা বুঝে উঠতে না পেরে অনেকে ‘কেঁদো না’, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’, ‘শক্ত হও’ বা ‘জীবন এমনই’—এ ধরনের কথা বলে ফেলেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কথা বেশির ভাগ সময়ই ওই ব্যক্তিকে সাহায্য করে না। বরং মানুষের আবেগকে স্বীকৃতি দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কাউকে কাঁদতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন না। বরং ওই মুহূর্তে তাঁর পাশে থাকুন। অনেক সময় মানুষ সমাধান নয়, কেবল একজন মনোযোগী শ্রোতা চায়। আপনি তাঁকে বলতে পারেন—‘আমি তোমার পাশে আছি’, ‘তুমি চাইলে আমাকে বলতে পারো কী হয়েছে’, ‘তোমার যেমন লাগছে, এটা স্বাভাবিক’ কিংবা ‘তোমার জন্য এটা নিশ্চয়ই খুব কঠিন’। এসব বাক্য মানুষকে বোঝায় যে তার অনুভূতিকে আপনি গুরুত্ব ও স্বীকৃতি দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু কথা অপর পক্ষের ওপর উল্টো চাপ তৈরি করতে পারে। তাই ‘কেঁদো না’, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’, ‘বিষয়টা এতটা খারাপ নয় যে এমন কাঁদতে হবে’, ‘শক্ত হও’ বা ‘ভুলে যাও’—এ ধরনের বাক্য বলা থেকে বিরত থাকা উচিত। এ ধরনের কথা অনিচ্ছাকৃতভাবে অপর পক্ষের অনুভূতিকে ছোট করে দিতে পারে।

সব সময় কিছু বলতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। কখনো কখনো নীরবে পাশে বসে থাকা, চোখে চোখ রাখা বা সম্পর্ক অনুযায়ী একটি আলতো স্পর্শও অনেক বড় সমর্থন হতে পারে। খুব বেশি জিজ্ঞাসাবাদ না করে খোলা মনে প্রশ্ন করা যেতে পারে, যেমন—‘তুমি কি এটা নিয়ে কথা বলতে চাও?’, ‘এ মুহূর্তে তোমার কী দরকার বলে মনে হচ্ছে?’ বা ‘আমি কীভাবে তোমাকে সাহায্য করতে পারি?’ এতে অপর ব্যক্তি নিজের মতো করে কথা বলার সুযোগ পান।

সবাই কান্নার সময় কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। সে ক্ষেত্রে তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান করুন। আপনি বলতে পারেন, ‘ঠিক আছে। যখন কথা বলতে ইচ্ছা করবে, আমি আছি।’ এতে তিনি চাপ বোধ করবেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিখুঁত কথা বলার চেয়ে আন্তরিক উপস্থিতি বেশি মূল্যবান। এমনকি আপনি যদি শুধু বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না কী বলব, কিন্তু আমি তোমার পাশে আছি’—সেটিও অনেক সময় গভীর সান্ত্বনা দিতে পারে। কাউকে কাঁদতে দেখলে তাঁর কান্না থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করে বরং তাঁর অনুভূতিকে বিচার না করে শুনুন এবং পাশে থাকুন। মানুষ নিখুঁত পরামর্শের চেয়ে আন্তরিক সহমর্মিতা বেশি মনে রাখে।

যখন কথা বলতে ইচ্ছা করবে, আমি আছি।’এতে তিনি চাপ বোধ করবেন না।.সালমান খান যেভাবে ১৬ কেজি ওজন কমালেন.বিশেষজ্ঞদের মতে, নিখুঁত কথা বলার চেয়ে আন্তরিক উপস্থিতি বেশি মূল্যবান।

শেয়ার করুন