নিউইয়র্কের জনপ্রিয় ও বৃহৎ প্রবাসী সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে সোসাইটির নিজস্ব কার্যালয়ে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসেরের সভাপতিত্বে কমিশনের সকল সদস্য এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখতে কমিশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্যাম্পল ব্যালট প্রদর্শন, পোলিং এজেন্ট নিয়োগ এবং ডাবল ভোট প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্যাদি হাইলাইট করা থাকবে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না ঘটে। ব্যালট পর্যালোচনা করে প্রার্থীরা বেশ কিছু সংশোধনী ও পরামর্শ দেন। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে জানায়, ভোটারদের তথ্য এমনভাবে সমন্বয় ও চিহ্নিত করা হচ্ছে যাতে একজন ভোটার কোনো অবস্থাতেই একাধিকবার ভোট দিতে না পারেন।
নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিষয়ে কমিশন জানিয়েছে, প্রত্যেক প্রার্থী ভোটকেন্দ্রে কেবল একবার প্রবেশের সুযোগ পাবেন এবং সেখানে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অবস্থান করতে পারবেন। এছাড়া প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও অবস্থানসংক্রান্ত বিষয়গুলো কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। সভায় পোলিং এজেন্টদের দায়িত্ব ও কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে কতজন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করবেন, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কমিশনের পক্ষ থেকে কমিশনার রুহুল আমিন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সেলিম-আলী পরিষদের পক্ষ থেকে সভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী অংশ নেন। এছাড়া কুনু-ফিরোজ পরিষদের সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীও সভায় উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি দুই পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ৫ জন করে প্রতিনিধিও সভায় অংশ নেন। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন বদরুল এইচ খান, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন আজাদ, মো. রুহুল আমিন সরকার, আহবাব চৌধুরী, মিঠু হামিদ ও মোহাম্মদ দুলাল মিয়া। বিশেষ করে কয়েকজন প্রার্থীর নামের বাংলা ও ইংরেজি বানানে অসঙ্গতির বিষয়টি উঠে আসে।
আগামী ২৫ অক্টোবর রোববার অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে দুই পূর্ণাঙ্গ প্যানেল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৪৩ জন প্রার্থী ২১টি পদের জন্য লড়ছেন। সভার প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া কেবল কমিশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য প্রতিদ্বন্দ্বী সকল পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও এই নির্বাচনে কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ভোটারদের আস্থা অর্জনে কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে সভায় জানানো হয়। প্রার্থীদের বেশ কয়েকটি প্রস্তাব ও সুপারিশ গ্রহণ করেছে কমিশন।





