কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭ জন নিহত

প্রকাশ:

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বুধবার রাতে রাশিয়ার এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এ হামলায় দুই ডজনেরও বেশি ব্যালিস্টিক ও অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার একটিও দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঠেকাতে সক্ষম হয়নি। এই ঘটনায় ইউক্রেনের শহরাঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের তীব্র সংকট আবারও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ও অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহে বিলম্বের কারণেই এমন প্রাণহানি ঘটছে। জেলেনস্কি জানান, তিনি ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে সক্ষম দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যারা এখনই অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে অপারগ, তাদের রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান তিনি।

রুশ হামলায় ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম রোজেটকার একটি গুদাম কমপ্লেক্সে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। প্রতিষ্ঠানটির সহ-মালিক ইরিনা চেচোটকিনা জানান, তার জীবনের দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল কয়েক মিনিটের আগুনে পুড়ে গেছে। খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এপিসেন্টর জানিয়েছে, তাদের উৎপাদন অবকাঠামোয় হামলায় একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ফোজি গ্রুপের দুটি বিতরণকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ছয়জন কর্মী নিহত ও আরও অনেকে আহত হয়েছেন। জেলেনস্কির মতে, এসব গুদাম, লজিস্টিক কেন্দ্র ও রেলস্টেশন ছিল হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে অভিযান চালিয়েছে। তাদের দাবি, লক্ষ্যবস্তু ছিল এমন সব পরিবহন ও লজিস্টিক কেন্দ্র যেখানে ইউক্রেনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষিত ছিল। ইউক্রেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটে ভুগছে। গত মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে নিজস্ব প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের অনুমতি দিতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন।

একই রাতে ইউক্রেনও রাশিয়ার তুলা অঞ্চলে ওয়াইল্ডবেরিজের একটি সর্টিং সেন্টারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইউরালড্রোন প্ল্যান্টের প্রধান নির্বাহী ভ্লাদিমির তকাচুক গাড়ি বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন এবং বিষয়টি হত্যাচেষ্টা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ইউক্রেনের ড্রোন ও গোলাবর্ষণে রাশিয়ায় ৬১ জন নিহত ও ৩২৭ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগে সোমবার রাশিয়ার সমুদ্রসৈকতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে সাতজন নিহত হওয়ার দাবি করেছিল মস্কো।

শেয়ার করুন