শেখ হাসিনার পতন একাত্তরের পর সবচেয়ে আনন্দের দিন: আসিফ নজরুল

প্রকাশ:

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল শেখ হাসিনার পতনকে বাংলাদেশের জন্য একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের পর সবচেয়ে আনন্দের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই দিনটি হঠাৎ করে আসেনি। তার মতে, ২৫ মার্চের কালরাতের পর যেমন মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল, তেমনি ১৬ জুলাইয়ের পর নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শেখ হাসিনার পতনকে অনিবার্য করে তোলে। দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের দেশের মানুষের ওপর এমন নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের আর কোনো নজির নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ৫ আগস্টের পর সদলবলে হাসিনার পালানোর নজিরও আধুনিক বিশ্বে নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, দলটি মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত ও নেতৃত্ব দিলেও স্বাধীন বাংলাদেশে দুবার জনতার রুদ্ররোষে তাদের ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, কেন এমন হয় এবং এই প্রশ্নের উত্তর আওয়ামী লীগের খুঁজে বের করা দরকার। তবে তার ধারণা, দলটি তা করবে না কারণ তাদের ডিএনএ-তে আত্মসমালোচনা বা অনুশোচনার কোনো স্থান নেই। তাদের মানসিকতা এমন যে তারা ৩২ নম্বরকে বাংলাদেশ এবং শেখ পরিবারকে দেশের মালিক মনে করে, আর মুক্তিযুদ্ধকে ভিন্নমত দমনের লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করে। এই মানসিকতাই তাদের জুলুম ও দমন-পীড়নের দুঃসাহস জুগিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও লেখেন, বাংলাদেশের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও ধোয়া তুলসীপাতা নয়, তাদেরও ভুল ও সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের মতো এমন সীমাহীন অনাচারের আত্মবিশ্বাস, ক্ষমতার মালিকানাবোধ এবং স্পর্ধা অন্য কোনো দলের মধ্যে তিনি দেখেননি। শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উৎফুল্ল হওয়া নিয়ে তার আপত্তি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, তবে মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগ আর ফিরবে না। হাজারো মানুষকে হত্যা এবং আরও বহুগুণ মানুষকে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়ার বিচার না হলে, প্রয়োজনে তারা আবারও রাজপথে নামবেন এবং তিনিও নামবেন।

তিনি বলেন, মৃত্যুভয় জয় করেই তারা বেঁচে আছেন। আল্লাহ যেদিন চাইবেন সেদিন চলে যাবেন, কিন্তু যতদিন বেঁচে থাকবেন, বাংলাদেশের শিশু ও তরুণদের বুকে গুলি চালানো খুনীদের একবিন্দুও ভয় পাবেন না এবং এক মুহূর্তের জন্যও ক্ষমা করবেন না। জুলাই মাসকে বাংলাদেশের পুনর্জন্ম হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও শেখ হাসিনার প্রশ্নে দেশবাসীকে জুলাইয়ের চেতনা নিয়েই বাঁচতে হবে।

শেয়ার করুন