গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার স্টেশনারি সামগ্রী কেনাকাটায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোটেশন নথিতে একটি মেটাডোর বলপেনের দাম ৫ টাকা উল্লেখ থাকলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া বিলে প্রতিটি কলমের দাম দেখানো হয়েছে ১২০ টাকা। এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিলের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই ১০ ধরনের স্টেশনারি সামগ্রী কেনার জন্য কোটেশন আহ্বান করা হয়। ১২ জুলাই কোটেশন খোলার পর তিনটি প্রতিষ্ঠান—সততা এন্টারপ্রাইজ, সেবা এন্টারপ্রাইজ ও মোরাদ এন্টারপ্রাইজ এতে অংশ নেয়। এর মধ্যে মোরাদ এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কোটেশন অনুযায়ী ১০০টি মেটাডোর বলপেনের একক মূল্য ছিল ৫ টাকা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে বিল দাখিল করেছে, সেখানে কলমের দাম ১২০ টাকা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অফসেট পেপার, স্ট্যাপলার পিন, পিন রিমুভার, পেন্সিল ব্যাটারি, ক্যালকুলেটর, রেজিস্টার খাতা ও পাঞ্চ মেশিনসহ ১০টি পণ্যের মোট কোটেশনমূল্য ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৭৪ টাকা, অথচ বিল জমা দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টাকার।
ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটেশনে অংশ নেওয়া সততা এন্টারপ্রাইজ ও মোরাদ এন্টারপ্রাইজের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর নেই। সেবা এন্টারপ্রাইজের একটি মোবাইল নম্বর থাকলেও তাদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে শ্রীপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. মিজানুর রহমান বলেন, সব নিয়ম মেনেই কোটেশন সম্পন্ন হয়েছে। বিলে কলমের দাম বেশি লেখাটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল, তবে মোট ব্যয়ের হিসাবে কোনো গরমিল হয়নি। পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেদ আখতারও একই দাবি করে জানান, যাচাই করে দেখা গেছে মোট বিলের পরিমাণ কোটেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক নাহিদ ভূঁইয়া জানান, একটি পণ্যের দাম বেশি মনে হলেও অন্য পণ্যের দাম কম থাকায় মোট ব্যয় সঠিক রয়েছে। তবে তিনি বিষয়টি প্রয়োজনে আরও পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছেন।





