বিহারের বাঁকিপুরে বিজেপির ৩০ বছরের দুর্গ ভাঙলেন প্রশান্ত কিশোর

প্রকাশ:

নির্বাচনী কৌশলবিদ থেকে রাজনীতিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা প্রশান্ত কিশোর বিহারের রাজনীতিতে বড় ধরনের অঘটন ঘটিয়েছেন। রাজধানী পাটনার বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বিজেপির দখলে থাকা শক্ত ঘাঁটিটি ভেঙে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। জন সুরাজ পার্টির (জেএসপি) প্রধান প্রশান্ত কিশোর মোট ৬৪ হাজার ১৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমার পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৮২৭ ভোট। ফলে ১৯ হাজার ৩২৪ ভোটের ব্যবধানে তিনি জয় নিশ্চিত করেন। এই নির্বাচনে ১৪ হাজার ২৭৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) প্রার্থী রেখা কুমারী।

জয়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশান্ত কিশোর বলেন, তিনি মাত্র ৩০ দিনে বিজেপির ৩০ বছরের পুরনো ঘাঁটি ভেঙে দিয়েছেন। তিনি বাঁকিপুরের ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বিহারের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'তিন মাসের মধ্যেই বাঁকিপুরে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাবেন। শুধু আমাকে তিন মাস সময় দিন।' প্রশান্ত কিশোর আরও দাবি করেন, বিহারের মানুষ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বার্তা দিয়েছেন যে, তারা রাজ্যের নেতৃত্বে অপরাধমূলক অতীত বা বিতর্কিত ভাবমূর্তির কাউকে দেখতে চান না, বরং একজন ভালো মুখ্যমন্ত্রী চান।

এদিকে, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী প্রশান্ত কিশোরকে তার এই বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে বাঁকিপুর উপনির্বাচনে জনগণ জন সুরাজকে বেছে নিয়েছে এবং এই রায়কে তিনি সম্মান জানান।

বাঁকিপুর আসনটি ঐতিহাসিকভাবে বিজেপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। এই আসনের সাবেক বিধায়ক নীতিন নবীন একাধিকবার নির্বাচিত হয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেও স্থান করে নিয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। প্রার্থী মনোনয়ন নিয়েও বিজেপিকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে অভিষেক কুমার সিনহা পারিবারিক কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ালে যুবনেতা নীরজ কুমারকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় দলটি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন বিহারের তরুণ ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা ছিল, যেখানে বিজেপির প্রতি তরুণদের সমর্থন অটুট থাকার দাবি করেছিলেন নীতিন নবীন। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টিও এই নির্বাচনের সময় উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল।

শেয়ার করুন