দেশে সরকার পরিবর্তনের পরেও মাদক সিন্ডিকেটের চরিত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগে মাদক বা ইয়াবার নাম শুনলে আবদুর রহমান বদির নাম সবার আগে সামনে আসত, কিন্তু বর্তমানে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও তার অনুসারী বা নতুন নেতৃত্ব সেই শূন্যস্থান দখল করে নিয়েছে। মাদকের রুট বা চেইন আগের মতোই অক্ষত রয়েছে এবং সীমান্ত ও বিমানবন্দর দিয়ে মাদক প্রবেশ অব্যাহত আছে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব মাদক বিভিন্ন পর্যায়ে হাতবদল হয়ে গ্রাহকের হাতে পৌঁছাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনীতিকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধেই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবশালী পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না। এছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন জানিয়েছেন, সারা দেশেই মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।
সম্প্রতি ডিবি লালবাগ বিভাগের একটি দল ৫১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির পাড়গেন্ডারিয়া ইউনিটের সভাপতি রিপন মিয়া ও তার সহযোগী ফারুক ওরফে টেপাকে ৩৫০০ পাতা হেরোইনসহ গ্রেফতার করেছে। ডিবি লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার রওনক আলম জানান, গ্রেফতারকৃতদের রোববার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৬ জুন পল্লবীর ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. ফাইয়াজ ওরফে মুন্নাকে পাঁচ প্যাকেট হেরোইন ও এক হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। ২৫ জুন লালমনিরহাটের আদিতমারীর ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি খোকন মিয়াকে ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ আটক করে ডিবি।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, নোয়াখালীর চাটখিলের ভিমপুর গ্রামের ববিতা আকতার সুমাইয়া ঝুপড়ি ঘরের ভেতরে এসি ও সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা চালাতেন। ১৬ জুন যৌথ বাহিনী তার আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। এছাড়াও রাজধানীর ভাটারা থানার কুড়িল কুড়াতলী এলাকায় সেলিনা নামে এক নারী নিজেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ দাবি করে মাদকের হাট পরিচালনা করছেন।
মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আগের ক্ষমতাসীন দলের ছায়ায় থাকা মাদক কারবারিদের একটি অংশ আত্মগোপনে গেছে বা ভোল পাল্টেছে। তাদের জায়গা দখল করেছেন বর্তমান রাজনৈতিক দলের সদস্যরা। মাদক ব্যবসা থেকে পাওয়া বিপুল নগদ অর্থ সন্ত্রাসী বাহিনী টিকিয়ে রাখা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে আসা মাদকের বড় চালানগুলো অনেক সময় রাজনৈতিক ব্যানার বা স্টিকারযুক্ত পরিবহনে রাজধানীতে প্রবেশ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝেমধ্যে ছোটখাটো রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করলেও মূল প্রভাবশালীরা প্রায়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।





