প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিল বিএনপি

প্রকাশ:

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, সেই সময়সীমার আগেই চলতি কিংবা আগামী মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। বিএনপি’র দুই স্থায়ী কমিটির সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত হয় দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। দুই ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পদে দলের প্রার্থী মনোনয়নের পূর্ণ ক্ষমতা তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তবে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠকে কারও নাম প্রস্তাব করেননি।

বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক এখতিয়ার। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আইন ১৯৯১-এ সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, নির্বাচন কমিশন কীভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবে। আইন অনুসারে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে দল থেকে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন তারেক রহমান।

একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করে ভোট গ্রহণের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। একক প্রার্থী থাকলে নির্বাচনের প্রয়োজন হয় না, তবে একাধিক প্রার্থী থাকলে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সংসদীয় ভোট গ্রহণের নিয়ম রয়েছে। এদিকে জাতীয় সংসদের একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আইন ১৯৯১-এর ৩৫০, ৩৪৯ ও ৭ ধারা অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে ইসি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছ থেকে ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করবেন।

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের জন্য সংবিধানে নির্ধারিত ৯০ দিনের সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকেই দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন এবং দলের সিনিয়র নেতাদের নাম তালিকায় রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ২৪শে জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন।

শেয়ার করুন