ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং তার দীর্ঘদিনের পৃথকভাবে বসবাসকারী স্ত্রী পায়েল আবদুল্লাহর বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি পি এস নরসিমহা ও আলোক আরাধের বেঞ্চে শুনানি চলাকালে আদালতকে জানানো হয় যে, উভয় পক্ষ পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে তাদের সব বিরোধ নিষ্পত্তি করেছেন।
শুনানিতে ওমর আবদুল্লাহর আইনজীবী জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট কপিল সিব্বল আদালতে জানান, মধ্যস্থতার মাধ্যমে দুই পক্ষের সব বিরোধ মিটে গেছে। তিনি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যৌথভাবে পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জানান। সিব্বল বলেন, দু’জনই এখন স্বাধীনতাকে আলিঙ্গন করেছেন এবং সব বিষয় মিটে যাওয়ায় আদালত চাইলে বিবাহবিচ্ছেদের আদেশ দিতে পারেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এটি ভালো হয়েছে এবং এই শর্তেই মামলার নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য সব মামলাও প্রত্যাহার করে নেয়া হবে বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য যে, ওমর আবদুল্লাহ ও পায়েল আবদুল্লাহ ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের জাহির ও জামির নামে দুই ছেলে রয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে তারা আলাদা বসবাস শুরু করেন এবং ২০১১ সালে ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট এই দম্পতিকে পারিবারিক বিরোধ মিটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল।
এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দিল্লি হাইকোর্ট ওমর আবদুল্লাহর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন খারিজ করে ২০১৬ সালের পারিবারিক আদালতের রায় বহাল রেখেছিল। তৎকালীন রায়ে আদালত জানিয়েছিল, ওমর আবদুল্লাহর আনা নিষ্ঠুরতার অভিযোগগুলো অস্পষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য নয়। পায়েল আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় আদালত তখন ওমর আবদুল্লাহর আবেদন নাকচ করে দিয়েছিল। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে অবশেষে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই এই দম্পতির বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হলো।





