চোখের সামনে নাক থাকার পরও কেন আমরা তা দেখতে পাই না

প্রকাশ:

এক চোখ বন্ধ করে সোজা সামনের দিকে তাকালে দৃষ্টির এক কোণায় আবছা কিছু দেখা যায়, যা মূলত আমাদের নাক। আমরা জেগে থাকা অবস্থায় নাক সবসময় আমাদের চোখের সামনেই থাকে, অথচ আমরা বেশির ভাগ সময় তা দেখতে পাই না। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী মাইকেল ওয়েবস্টারের মতে, আমরা চাইলেই নাক দেখতে পারি, কিন্তু সাধারণত মস্তিষ্ক এটি নিয়ে মাথা ঘামায় না।

আমাদের মস্তিষ্ক চারপাশের দুনিয়ার একটি বিশেষ মডেল তৈরি করে, যা বেঁচে থাকার জন্য সহায়ক। এটি বাইরের জগতের নতুন ও অস্বাভাবিক বিষয়গুলো খুঁজে বের করতে বেশি আগ্রহী। যেহেতু নাক সবসময় একই জায়গায় স্থির থাকে, তাই মস্তিষ্ক একে চেনা ও সাধারণ বিষয় হিসেবে ধরে নেয়। নাকের দিকে মনোযোগ দিলে মস্তিষ্কের শক্তি অপচয় হতো, তাই বেঁচে থাকার প্রয়োজনে মস্তিষ্ক এমন অনেক পরিচিত তথ্য নিজে থেকেই বাদ দিয়ে দেয়। সূত্র: লাইভ সায়েন্স। ১৩৮ বছরের অভিযানের গল্প নিয়ে তৈরি হলো ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের নতুন জাদুঘর।

একইভাবে চোখের ভেতরে থাকা রক্তনালিগুলোও আমাদের দৃষ্টিতে ধরা পড়ে না। আমাদের চোখের আলোক সংবেদনশীল কোষগুলোর সামনে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা এই রক্তনালিগুলোকে মস্তিষ্ক সম্পাদনার মাধ্যমে বাদ দিয়ে দেয়। তবে চোখের ডাক্তাররা যখন পরীক্ষার সময় তীব্র আলো ফেলেন, তখন এই রক্তনালির ছায়া কালো দাগ হিসেবে দেখা যায়।

মস্তিষ্ক শুধু তথ্য বাদই দেয় না, বরং অনেক সময় নতুন তথ্য তৈরিও করে। মানুষের চোখে ‘ব্লাইন্ড স্পট’ বা অন্ধবিন্দু থাকে, যেখানে আলো চেনার কোনো কোষ নেই। এই অন্ধবিন্দু পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও আকারে দ্বিগুণের বেশি বড়। কিন্তু মস্তিষ্ক চারপাশের দৃশ্য দেখে সেই ফাঁকা জায়গাটি নিজে থেকেই পূরণ করে দেয়, ফলে আমরা কোনো শূন্যতা অনুভব করি না।

মূলত আমাদের চোখ কোনো ক্যামেরা নয় যে সামনে যা পাবে হুবহু তা-ই রেকর্ড করবে। এটি একজন দক্ষ শিল্পীর মতো কাজ করে, যা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যটুকু সামনে ফুটিয়ে তোলে। আমরা যখন সচেতনভাবে নাকের দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করি, তখনই মস্তিষ্ক আমাদের নাকটি দেখিয়ে দেয়। মূলত বেঁচে থাকার লড়াইয়ে শক্তির অপচয় রোধ করতেই মস্তিষ্ক আমাদের দৃষ্টির অনেক সাধারণ বিষয়কে আড়ালে রাখে।

শেয়ার করুন