ইরাকে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস বা পিএমএফের একাধিক ঘাঁটিতে বুধবার ভোরে যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। ওয়াশিংটন ও রিয়াদের দাবি, সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় চালানো ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই হামলায় পিএমএফের অন্তত ২০ সদস্য নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন। বাগদাদ, নিনেভে, বসরা, কিরকুক, কারবালা, দিয়ালা ও ওয়াসিতসহ বিভিন্ন প্রদেশে এই হামলা চালানো হয়।
প্রায় একই সময়ে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এসব হামলা প্রতিহত করেছে এবং জর্ডানের সেনাবাহিনী পাঁচটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তিনটি ট্যাংকারে হামলার দাবিও করেছে। তবে কোন হামলাটি আগে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানকে এর জন্য ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে বলে হুমকি দিয়েছেন। টানা ১৩ দিন পর গত শুক্রবার ইরানে বোমা হামলা স্থগিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প ইরাকে পরিচালিত যৌথ হামলাকে ইরাকি সরকারের সঙ্গে সমন্বিত বলে দাবি করে পিএমএফকে ‘বিশ্বের জন্য ক্যানসার’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর এবারই প্রথম প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা জানাল সৌদি আরব।
ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি এই হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছেন। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল–জাইদি পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিপরিষদের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জর্ডান ও ইরাকের এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। জর্ডানে থাকা প্রায় চার হাজার মার্কিন সেনার সুরক্ষায় কড়াকড়ি আরোপের কথা ভাবছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এদিকে, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও, নতুন করে এই সংঘাতের ফলে সেই প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ওমানের হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার প্রস্তাবও ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে।





