বৈশ্বিক সামরিক শক্তিতে এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও প্রধান প্রতিষ্ঠান

প্রকাশ:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেবল প্রযুক্তি খাতের গণ্ডি পেরিয়ে এখন বৈশ্বিক সামরিক শক্তির ভারসাম্যে এক বড় পরিবর্তন নিয়ে আসছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ট্যাংক, যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি সফটওয়্যার, ক্লাউড কম্পিউটিং, স্বয়ংক্রিয় ড্রোন, উন্নত তথ্য বিশ্লেষণ এবং এআই-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থা ক্রমশ অপরিহার্য হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তনের ফলে ঐতিহ্যবাহী সামরিক-শিল্প জোট (Military-Industrial Complex) ধীরে ধীরে ‘মিলিটারি-টেক’ বা এআই-নির্ভর সামরিক শিল্পে রূপান্তরিত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন সরকার এই খাতে বিপুল বিনিয়োগ করছে, যার বড় একটি অংশ যাচ্ছে শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঝুলিতে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি) সামরিক এআই শিল্পকে চারটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করেছে: ডিফেন্স প্রাইমস বা ঐতিহ্যবাহী প্রতিরক্ষা ঠিকাদার, নিওপ্রাইমস বা প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ, বিগ টেক এবং ফাউন্ডেশনাল মডেল প্রোভাইডার। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় বেড়ে প্রায় ২.৮৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) তাদের সেনাবাহিনীকে ‘এআই-ফার্স্ট’ বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিশ্বের শীর্ষ আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো এআই বাস্তবায়নে বড় বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৫ বছরের জন্য ২ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২.৭ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের একটি চুক্তি করেছে রেথিয়ন ইউকের নেতৃত্বাধীন ওমনিয়া ট্রেনিং কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর প্রায় ৬০ হাজার সেনাকে এআই ব্যবহার করে যুদ্ধ পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ন্যাটো তাদের উন্নত বিমান কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ডেটা প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্ডুরিল, প্যালান্টির এবং ফ্রান্সের এথিয়া এসএএস-কে। এর মধ্যে অ্যান্ডুরিলের ‘ল্যাটিস’ সফটওয়্যারটি বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করে যুদ্ধক্ষেত্রের তাৎক্ষণিক চিত্র তৈরিতে সক্ষম।

শেয়ার করুন