১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্মার্টফোন হারালে তথ্য থাকবে নিরাপদ, মেনে চলুন ৯ পরামর্শ

প্রকাশ:

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগত ছবি, বার্তা, ব্যাংকিং কার্যক্রম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব—সবকিছুই এই যন্ত্রটির ওপর নির্ভরশীল। ফলে ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে কিছু প্রয়োজনীয় সেটিংস ও সচেতনতা অবলম্বন করলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। তবে ফোন চুরি বা হারিয়ে যাওয়ার আগেই সেটিংস পরিবর্তনসহ সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

প্রথমত, ফোনের সুরক্ষায় ‘ফাইন্ড মাই’ বা ‘ফাইন্ড হাব’ সুবিধাটি অবশ্যই চালু রাখতে হবে। আইফোনের ক্ষেত্রে ‘ফাইন্ড মাই’ এবং অ্যান্ড্রয়েডের জন্য ‘ফাইন্ড হাব’ ব্যবহার করা হয়। ফোন হারানোর পর দূর থেকে এর অবস্থান শনাক্ত করতে, ডিভাইস লক করতে বা প্রয়োজনে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার জন্য এই ফিচারগুলো অত্যন্ত কার্যকর। এ ছাড়া পিন বা পাসকোড ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। ১২৩৪৫৬, ০০০০০০ বা জন্মতারিখের মতো সাধারণ পিন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আইফোন ব্যবহারকারীরা সুরক্ষায় ‘স্টোলেন ডিভাইস প্রটেকশন’ সুবিধাটি সক্রিয় রাখতে পারেন, যা বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ‘ফাইন্ড মাই’ বা ‘ফাইন্ড হাব’ চালু রাখা। 1. এসব সুবিধার মাধ্যমে হারানো ফোনের অবস্থান দেখা যায়। ফেস আইডি বা আঙুলের ছাপ দিয়ে ফোন আনলক করার কারণে অনেক সময় পাসকোড দিতে হয় না। অথচ ফোনের নিরাপত্তায় এটি অন্যতম প্রধান সুরক্ষাব্যবস্থা।

দ্বিতীয়ত, ফোনের লক স্ক্রিনে যেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না ভেসে ওঠে, সেদিকে নজর দিন। লক স্ক্রিন থেকেই যাতে কেউ ব্যাংকিং ওটিপি, কার্ডের লেনদেন বা ব্যক্তিগত সংবেদনশীল বার্তা দেখতে না পারে, সেজন্য নোটিফিকেশন সেটিংসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনুন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপগুলোকে পৃথক নিরাপত্তা স্তরে রাখুন। বিশেষ করে ব্যাংকিং, আর্থিক লেনদেন, ই-মেইল, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ও অথেনটিকেটর অ্যাপগুলোর জন্য শক্তিশালী অ্যাপ লক বা প্রাইভেট স্পেসের ব্যবহার নিশ্চিন্ত রাখতে সহায়তা করে।

তৃতীয়ত, সিম কার্ডের নিরাপত্তা ও তথ্যের ব্যাকআপ রাখা সমান গুরুত্বপূর্ণ। ওটিপি পাওয়ার জন্য ফোন নম্বরটি অপরিহার্য, তাই সিম কার্ডে পিন লক চালু রাখা যেতে পারে। তবে পিন ভুলে গেলে পিইউকে কোড ব্যবহারের নিয়মটি জেনে রাখা জরুরি। পাশাপাশি ফোনের তথ্যের নিরবচ্ছিন্ন ব্যাকআপ নিশ্চিত করতে স্বয়ংক্রিয় ক্লাউড ব্যাকআপ ফিচারটি সবসময় সচল রাখুন। নিয়মিত বিরতিতে ছবি, পরিচিতি ও নথি ব্যাকআপ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। তাই ফোনের সেটিংসে গিয়ে সুবিধাগুলো চালু আছে কি না, এখনই পরীক্ষা করে নিন।

চতুর্থত, ফোন ছাড়া অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের বিকল্প ব্যবস্থা আগে থেকেই তৈরি রাখুন। নতুন কোনো ডিভাইস থেকে নিজের গুগল বা অ্যাপল অ্যাকাউন্টে ঢোকার প্রয়োজন হলে যেন সমস্যায় পড়তে না হয়, সেজন্য রিকভারি কোড বা বিকল্প পথগুলো ফোনের বাইরে নিরাপদ স্থানে লিখে রাখুন। এছাড়া প্রতিটি ফোনের একটি অনন্য আইএমইআই (IMEI) নম্বর থাকে। এই নম্বরটি ফোনের বাক্স বা চালানের বাইরে আলাদা কোনো নিরাপদ জায়গায় সংরক্ষণ করুন, যা ফোন হারানোর পর শনাক্তকরণে কাজে লাগবে।

পরিশেষে, ডিজিটাল মানিব্যাগ হিসেবে ব্যবহৃত স্মার্টফোনের আর্থিক অ্যাপগুলোর বিষয়ে চরম সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ফোনের নোটস অ্যাপে ব্যাংকের পাসওয়ার্ড বা কার্ডের তথ্য লিখে রাখা উচিত নয়। ফোন হারিয়ে গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক সেবাদাতাকে অবহিত করার প্রক্রিয়াটিও আগে থেকে জেনে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। সব মিলিয়ে এই ৯টি ধাপ অনুসরণের মাধ্যমে স্মার্টফোনের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

শেয়ার করুন