রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে বঙ্গভবন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত রয়েছে, যদিও বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি। বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নিজেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি তিনি বঙ্গভবনের কর্মীদের চলতি মাসের মধ্যেই যার যার মতো করে চলে যাওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। তবে স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি এতদিন বিলম্বিত হচ্ছিল।
এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থানরত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই শুক্রবার দুপুরে দেশে ফিরেছেন। স্পিকারের এই আগাম দেশে ফেরার বিষয়টি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে, কারণ সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, তিনি এক সপ্তাহ দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে কোনো তথ্য তার কাছে নেই। তিনি বলেন, বাইরের মানুষের মতোই তিনিও একই ধরনের খবর শুনেছেন। তিনি আরও জানান, দেশে ফিরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি বিস্তারিত জানতে পারবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। উল্লেখ্য, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তিনিই একমাত্র রাষ্ট্রপতি যিনি তার মেয়াদে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।





