রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: মামা ও ভাগনির মৃত্যু

প্রকাশ:

রাজধানীর ভাটারার নতুন বাজার এলাকায় একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন শাহিন (২৪) এবং তার আট বছর বয়সী ভাগ্নি হাফসা আক্তার। ঘটনার পর থেকে শাহিনের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার (২১) গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণে শাহিনের শরীরের ৫০ শতাংশ এবং শিশু হাফসার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফাহিমা আক্তারের শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২১ জুলাই মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে। ওই সময় নতুন বাজারের ১০০ ফিট সড়কের একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ওই বাসায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিবেশী মো. জসিম উদ্দিন জানান, স্থানীয়রা বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন পরিবারের তিনজনই দগ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। তিতাসের গ্যাস সংযোগ থাকা ওই বাসায় রাতে গ্যাস লিকেজ হয়ে কক্ষে গ্যাস জমে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। পরে ভোরে রান্নার সময় বা অন্য কোনো উৎস থেকে আগুনের সংস্পর্শে এসে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।

দুর্ঘটনায় দগ্ধ ফাহিমা আক্তারের চাচি শামীমা সুলতানা বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, প্রায় এক মাস আগে তারা ওই বাসায় ভাড়া ওঠেন। বাসায় ওঠার সময়ই গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গিয়েছিল। বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে জানালে তিনি পাইপ মেরামত করেছিলেন, তবে পরবর্তীতে আরও কয়েকবার লিকেজ দেখা দিলেও তা আর ঠিক করা হয়নি। যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তার অভিযোগ। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আহতদের মধ্যে শিশু হাফসা আক্তার ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এবং শাহিন ২৪ জুলাই শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে মারা যান।

শেয়ার করুন