দায়িত্ব গ্রহণের সোয়া তিন বছরের মাথায় পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন। তার এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতির জন্য বঙ্গভবনের দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, পদত্যাগের পর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। স্পিকার বর্তমানে বিদেশে থাকলেও, তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন এবং তার কাছেই প্রেসিডেন্ট পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলে জানা গেছে।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জোরালো হয়। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, গত মে মাসে লন্ডন সফরের সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে একে শপথ ভঙ্গের শামিল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি পর্যায় থেকে তাকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্বাস্থ্যগত বা পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করবেন। তবে প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, পদত্যাগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই।
নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, যিনি বিএনপি আমলের প্রভাবশালী আমলা ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তার নাম আলোচনায় উঠে আসলেও, বিএনপি নেতারা মনে করছেন রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে কোনো আমলার চেয়ে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত। অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শে অন্তর্বর্তী সরকার প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়নি, তবে প্রেসিডেন্ট সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের ফের আলোচনা শুরু হলেও বিএনপি’র নেতৃত্ব দেখে শুনে ব্যবস্থা নেয়ার পথে হাঁটে।
বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দলের সিনিয়র কোনো নেতাকে বেছে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য তালিকায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আব্দুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নাম শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন। সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে, তবে সরকার চাইলে জরুরি অধিবেশন ডেকে দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। উল্লেখ্য, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ৯ জন বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, ১৮ দফা প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সাংবিধানিক সংস্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।





