লেখকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তিনি অধিকাংশ সময় মিথ্যা কথা বলেন। এই মিথ্যাবাদী সত্তার আড়ালে তিনি বিলকিস আপার বাসায় গিয়ে দেখতে পান মোকারম ভাই পা ভেঙে শয্যাশায়ী। মোকারম ভাইয়ের মেয়ে মুসকান ও-লেভেল পরীক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তার বাবার দুর্দশা নিয়ে ফানি ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে ছড়ায়, যা আট ঘণ্টায় ৬৪ হাজার ভিউ ও ৬৪০টি শেয়ার পায়। মেয়ের এমন আচরণে মোকারম ভাই অত্যন্ত বিচলিত। লেখক তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে অ্যানজেলা ফুফুর প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, অ্যানজেলা ফুফু ছয় দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর মারা গেছেন এবং তার নাতনি সায়রা ও সামিরা মৃত দাদির নাক থেকে গোল্ডেন নাকফুল ছিঁড়ে নেওয়ার ঘটনা ভিডিও করে ছড়িয়েছে।
বাস্তব জীবনে অ্যানজেলা ফুফুর বিয়ে হয়েছিল ব্যারিস্টার খলিকুজ্জামান খলকুর সঙ্গে। তাদের দুই সন্তান জাভির ও সানজানা। সানজানার দুই মেয়ে সায়রা ও সামিরা। লেখকের এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে বিলকিস আপা বা অন্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এর মধ্যে লেখক বেনজিরের স্ত্রী জাকিয়ার ফোন পান, যিনি বেনজিরের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ। লেখক তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন এবং কবি সুলতানা রুবির মাধ্যমে বেনজিরের খোঁজ পাওয়ার কথা জানান।
লেখকের ঘরে হঠাৎ অতনুর আগমন ঘটে, যে দশ বছর আগে পোস্তগোলা শ্মশানে দাহ হয়েছে। অতনুর সঙ্গে লেখকের কথোপকথনে উঠে আসে নিশুতি ও বিজন সেনের বিয়ের প্রসঙ্গ। অতনু দাবি করে বিজন সেন বনলতা সেনের দূরসম্পর্কের ভাইপো এবং তার প্রচুর টাকা আছে। এর মধ্যেই অ্যানজেলা ফুফুর ফোন আসে। তিনি জীবিত এবং তার লাইফ সাপোর্টে থাকার খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানান। তিনি লেখকের কাছে জানতে চান কেন তিনি এমন মিথ্যা ছড়িয়েছেন। লেখক তখন বরিশাল যাওয়ার অজুহাত দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
রুবিনা নামের অপর এক আত্মীয়ের সঙ্গে লেখকের কথোপকথনে জাকিয়া ও বেনজিরের সম্পর্কের জটিলতা আরও স্পষ্ট হয়। লেখক স্বীকার করেন যে তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় প্রায় ৯৯ শতাংশ মিথ্যা বলেন। দিনশেষে তিনি নিজের এই মিথ্যার জগৎ এবং মৃত অতনুর সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর বিষয়টিকেই যেন সত্য বলে মেনে নেন।




