মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শকের সামনে লিওনেল মেসির নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিল স্পেন। ফুটবল বিশ্বের প্রত্যাশা ছিল মেসির বিদায় হবে রোমাঞ্চকর, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে এই আর্জেন্টাইন তারকাকে। স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালের দল মেসিকে আটকে রেখে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।
ম্যাচের ১০০ মিনিট পর্যন্ত মেসি ছিলেন নিষ্প্রভ। আর্জেন্টিনা দল সারাক্ষণ স্পেনের আক্রমণ প্রতিহত করতেই ব্যস্ত ছিল, পাল্টা আক্রমণ শানানোর সুযোগ পায়নি। এর মধ্যেই এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। ১০৬ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেস নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে আসা বল জালে জড়িয়ে স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন। এই গোলটিই ছিল ম্যাচের শেষ পেরেক। গোল খাওয়ার পর মেসিকে দূর থেকে দাঁড়িয়ে চোখের জল মুছতে দেখা গেছে।
গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ৮ গোল করেও মেসি জিততে পারেননি। ফরাসি তারকা এমবাপ্পে ১০ গোল করে সেই সম্মান ছিনিয়ে নিয়েছেন। অথচ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পর মেসিকে এই আসরে হট ফেভারিট ধরা হয়েছিল। খেলা শুরুর আগে মেসি সতর্ক ছিলেন এবং স্পেনের ফুটবল দর্শন সম্পর্কে জানতেন, তবে মাঠের লড়াইয়ে তার পরিকল্পনা বানচাল হয়ে যায়।
বার্সেলোনা ছাড়ার সময় যেমন কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন, আজও মেসির চোখে ছিল সেই একই বিষাদ। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে বাড়ির কাছের এই বিশ্বকাপ জয় তার অধরাই থেকে গেল। গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ দুর্দান্ত কিছু বল প্রতিহত করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো। এখন পর্যন্ত ইউরোপের ছয়টি দেশ এবং লাতিন আমেরিকার তিনটি দেশ শিরোপা জিতেছে। এশিয়া বা আফ্রিকা থেকে কোনো দল আজও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিল ৫ বার, জার্মানি ও ইতালি ৪ বার, আর্জেন্টিনা ৩ বার, ফ্রান্স, উরুগুয়ে ও স্পেন ২ বার এবং ইংল্যান্ড একবার শিরোপা জিতেছে। এবারের আসরে ৪৮ দলের অংশগ্রহণ নতুন চমক তৈরি করলেও মেসির বিদায়টা ছিল অত্যন্ত আবেগঘন।





