সন্তান হারানোর শোকে এখনো বাকরুদ্ধ শহীদ নাজিমের পরিবার

প্রকাশ:

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার নাজিম উদ্দিন। পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েন কমাতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্বপ্ন দেখতেন মানুষের মতো মানুষ হওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে বারহাট্টা সরকারি কলেজে ভর্তি হওয়া নাজিম পরিবারের প্রয়োজনে ঢাকায় গিয়ে জড়িয়ে পড়েন ছাত্র আন্দোলনে। গত ৫ আগস্ট বিকাল ৪টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানার সামনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি।

নাজিম উদ্দিন ছিলেন বারহাট্টার চিরাম ইউনিয়নের ভাটগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রোস্তম আলী ও শিমুলা আক্তারের একমাত্র ছেলে। তার বাবা পেশায় শ্রমিক এবং মা শিমুলা আক্তার ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। নাজিমের একমাত্র বড় বোন নাজমা আক্তার স্বামী ও সন্তান আসফিয়াকে নিয়ে টঙ্গীতে বসবাস করেন। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে নাজিমকে বারহাট্টায় নানাবাড়িতে রেখে পড়াশোনা করানোর পরিকল্পনা ছিল পরিবারের। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে রাজপথে তাজা রক্ত ঢেলে শহীদ হন তিনি।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মা শিমুলা আক্তার এখন পাগলপ্রায়। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার পুতরে কতোদিন ধইরা দেখি না! আমার পুত কই? এখন কেলা আমারে আম্মা বইলা ডাকবো? আমি আমার ছেলের শার্ট-প্যান্ট দেইখা দেইখা সময় কাটাই। নাজিমের মৃত্যুতে তার বাবা-মা, বোন ও ভাগনেসহ পুরো পরিবার শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

শহীদ নাজিমের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, উপজেলা পরিষদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং নাজিমের স্কুলের বন্ধুসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পরিবারটিকে অনুদান ও সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকেও নাজিমের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব সহায়তার ভিড়েও সন্তান হারানোর বেদনা তাদের তাড়া করে ফিরছে প্রতিনিয়ত।

নাজিমের মা-বাবা ঢাকায় থেকে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। পাশাপাশি চিন্তিত ছিলেন ছেলে নাজিমের পড়াশোনা নিয়েও। ভেবেছিলেন নাজিমকে বারহাট্টায় তার নানাবাড়িতে রেখে পড়াশোনা করাবেন। সে চিন্তা থেকেই নাজিম বারহাট্টা সরকারি কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। পরিবারের কাছে বেড়াতে ঢাকা গিয়ে নাজিম যুক্ত হয় জুলাই আন্দোলনে। ২৪ এর ৫ আগস্ট

শেয়ার করুন