বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি মেসি ও ইয়ামাল: ১৯ বছর আগের সেই শিশুর সাথে দেখা

প্রকাশ:

ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য মুহূর্তের অপেক্ষায় বিশ্ব। আগামী ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউইয়র্ক-নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্লকবাস্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও লামিনে ইয়ামালের স্পেন। এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার যখন দুই মহাদেশের চ্যাম্পিয়নরা শিরোপার লড়াইয়ে নামছে।

আর্জেন্টিনা গত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে, ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। মজার ব্যাপার হলো, ১৯৩০ সালে উরুগুয়ে-আর্জেন্টিনা ফাইনালের পর এই প্রথম স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলা দুটি দেশ বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে লড়ছে।

তবে এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো মেসি ও ইয়ামালের প্রথম মাঠের লড়াই। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বার্সেলোনার ন্যুক্যাম্পে ইউনিসেফের একটি চ্যারিটি ফটোশুটে ২০ বছর বয়সি মেসি ৬ মাসের শিশু ইয়ামালকে গোসল করিয়েছিলেন। ছবিটি দুই বছর আগে ভাইরাল হওয়ার পর ফুটবল রূপকথায় জায়গা করে নেয়। লটারির মাধ্যমে সুযোগ পাওয়া ইয়ামালের বাবা-মা জানতেন না যে, ভবিষ্যতে তাদের সন্তান মেসির উত্তরসূরি হিসেবে বার্সেলোনায় ১০ নম্বর জার্সি গায়ে জড়াবে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই লড়াইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে ইয়ামাল বলেছিলেন, সেই ফটোশুটের পর তারা দুজনই অনেক বড় হয়েছেন এবং তিনি আশা করেছিলেন ফাইনালে তাদের দেখা হবে। ইয়ামালের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, তবে এবার সেই হিরোর বিপক্ষেই তাকে লড়তে হবে শিরোপার জন্য।

এবারের বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করা আর্জেন্টাইন জাদুকর মেসির জন্য স্পেন অনেকটা দ্বিতীয় ঘরের মতো। স্প্যানিশ পাসপোর্টধারী মেসি যেমন স্পেনের ফুটবলকে সমৃদ্ধ করেছেন, তেমনি স্পেনের কাছেও তার অনেক ঋণ রয়েছে। তবে ফাইনালে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে শিরোপাই বড় লক্ষ্য। একইভাবে তরুণ সেনাপতি ইয়ামালও নিজের আদর্শের বিরুদ্ধে একচুল ছাড় দিতে নারাজ। সব মিলিয়ে ৩৯ বছর বয়সি মেসি ও ১৯ বছর বয়সি ইয়ামালের এই ফুটবলীয় দ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

শেয়ার করুন