যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত গতি আর দাপুটে ফুটবল খেলা ফরাসিরা এই ম্যাচে ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ। স্পেনের সুশৃঙ্খল রক্ষণ এবং কৌশলের কাছে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ সুবিধা করতে পারেনি।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে প্রথম গোলটি পায় স্পেন। ২০ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের ডি-বক্সের ভেতরে লামিনে ইয়ামাল ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় স্পেন। লুকাস দিনিয়ে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ইয়ামালের পায়ে আঘাত করেন। সেই সুযোগে স্পটকিক থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। এটি চলতি মৌসুমে স্পেনের হয়ে তার ১৪তম গোল, যা এক মৌসুমে স্পেনের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এর আগে ২০০৮-০৯ মৌসুমে ডেভিড ভিয়া ১৩ গোল করে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন।
ম্যাচের ৪২ মিনিটে ফ্রান্স সমতায় ফেরার বড় সুযোগ পেয়েছিল। আদ্রিয়েন রাবিওর বাড়ানো বলে কিলিয়ান এমবাপ্পে স্পেনের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে গেলেও গোলরক্ষক উনাই সিমন দ্রুত বেরিয়ে এসে বল ক্লিয়ার করে দেন। প্রথমার্ধে ৯ মিনিটে আদ্রিয়েন রাবিও এবং ৩৩ মিনিটে স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া হলুদ কার্ড দেখেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই স্পেন তাদের ব্যবধান দ্বিগুণ করে। ৫৮ মিনিটে দানি ওলমোর সাথে দ্রুত ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন পেদ্রো পোরো এবং গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পর ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশম ৫৭ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার বদলে দেজিরে দুয়েকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তাতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।
৬৪ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল আরও একটি গোল করার কাছাকাছি পৌঁছালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। ৬৭ মিনিটে এমবাপ্পের একটি শট কুকুরেয়ার গায়ে লেগে কর্নার হয় এবং পরে অরেলিয়েন চুয়ামেনির হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলেদের মতো তারকা খেলোয়াড়রা প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে ব্যর্থ হন।
আগামী রোববার দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে স্পেন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে।
এত দিন রেকর্ডটি ছিল ডেভিড ভিয়ার দখলে। ২০০৮–০৯ মৌসুমে তিনি করেছিলেন ১৩ গোল। সেই রেকর্ড ভেঙে এখন শীর্ষে উঠে গেলেন ওইয়ারসাবাল।





