আগামীকাল বুধবার দিবাগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। এই ম্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বমঞ্চে আবারো মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই পরাশক্তি। এর আগে সর্বশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপে তাদের দেখা হয়েছিল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে এটি হবে তাদের ষষ্ঠবারের মতো লড়াই। এর আগের পাঁচটি দেখায় ইংল্যান্ড জিতেছে তিনবার এবং আর্জেন্টিনা জিতেছে দুইবার। তবে নকআউট পর্বের লড়াইয়ে এগিয়ে আছে আলবিসেলেস্তেরা, যেখানে তিনবারের দেখায় দুবারই জয় পেয়েছে তারা।
বিশ্বকাপে দল দুটির প্রথম দেখা হয় ১৯৬২ সালে চিলিতে অনুষ্ঠিত আসরে, যেখানে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে পরাজিত হয়। এরপর ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের ঘরের মাঠে কোয়ার্টার ফাইনালে ১-০ গোলে জয় পায় ইংলিশরা। সেই আসরে পর্তুগালকে সেমিতে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড এবং পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়।
১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচটি ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছে। ওই ম্যাচের ৫১ মিনিটে দিয়েগো ম্যারাডোনা হাত দিয়ে গোল করেন, যা ফুটবল ইতিহাসে ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে পরিচিত। গোলটি নিয়ে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘গোলটি হয়েছে একটু মাথা দিয়ে, আরেকটু ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’ চার মিনিট পর ম্যারাডোনা আবারো গোল করলে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। যদিও ৮১ মিনিটে ইংল্যান্ডের লিনেকার গোল করে ব্যবধান কমান, তবে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় ম্যারাডোনার দল। সেই আসরে বেলজিয়ামকে সেমিতে এবং পশ্চিম জার্মানিকে ফাইনালে হারিয়ে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয় করে।
১২ বছর পর ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। নির্ধারিত সময় ২-২ গোলে ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয়লাভ করে আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায়। ওই ম্যাচের ৪৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন ডেভিড বেকহ্যাম। ওই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্ব থেকে এবং ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল।
সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে এবং ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনা।



