২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ:

দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে তিনি বলেন, অতীতের মতো আবারও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে খর্ব করার অপচেষ্টা চলছে। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকে ৭ই নভেম্বরের বিপ্লব র‌্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। প্রধানমন্ত্রী নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আসুন বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকারী মানুষকে নিয়ে আমরা যে কোন ষড়যন্ত্র দেশের ভেতরেই হোক, দেশের বাইরেই হোক, সকল ষড়যন্ত্রের জবাব আমরা এক এক করে দেব।

বিকাল ৩টার দিকে নয়াপল্টনের অস্থায়ী মঞ্চে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং এজেডএম জাহিদ হোসেন। এর আগে বেলা ১২টা থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করেন দলের নেতা-কর্মীরা। কাকরাইল থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত পুরো এলাকা জনতার ঢলে জনসমুদ্রে রূপ নেয়। উপস্থিত নেতা-কর্মীদের অনেকের হাতে ছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড এবং বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে র‌্যালিকে বর্ণাঢ্য রুপ দেন।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা আমি-ডামি নির্বাচনের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়, তাদের ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না। তার ভাষ্যমতে, ৭ই নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের দিন এবং এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বাক-স্বাধীনতা রক্ষার প্রতীক। এদিন তিনি স্লোগান ধরেন, ‘দিল্লী নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’

তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের ছাত্র-জনতা কেবল স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনেনি, তারা স্বৈরাচার ও ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর যেভাবে অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট দেশের মানুষের আন্দোলনের মুখে একই শক্তি পরাজিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে দেশবাসীকে সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে র‌্যালিতে অংশ নেন। পরবর্তীতে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে তিনি সমাপনী বক্তব্য রাখেন। এর আগে নয়াপল্টনের সমাবেশে তিনি উপস্থিত সমর্থকদের কাছে দেশরক্ষার লড়াইয়ে সমর্থন চাইলে তারা করতালির মাধ্যমে তাতে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এই সময়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানান। তার সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতারা অংশ নেন।

শেয়ার করুন