২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের আগে বিচারের দাবি হাসনাত আবদুল্লাহর

প্রকাশ:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত নানা অপকর্মের বিচার নিশ্চিত না করেই সে সময় জিয়াউর রহমান দলটিকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছিলেন। শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান: বর্তমানের প্রেক্ষাপটে ফিরে দেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ১৯৭২ থেকে ’৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংগঠিত অপকর্মগুলোর বিচার নিশ্চিত না করেই জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্।

হাসনাত আবদুল্লাহ স্পষ্টভাবে দাবি করেন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের কোনো আলোচনার আগে দলটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে এবং আদালতই নির্ধারণ করবে কারা অপরাধী আর কারা নয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই কেবল দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

৭ নভেম্বরকে বিপ্লব হিসেবে উদযাপন করলেও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দিতে বিএনপির অনীহা ও দ্বিচারিতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন হাসনাত। তিনি বলেন, বিএনপি রাজনৈতিক সুবিধার স্বার্থে ইতিহাসের ঘটনাগুলোকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করছে। জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করার ঘটনাকে তারা বিপ্লব বলে অভিহিত করে, যা নিয়ে বিতর্ক নেই। কিন্তু চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি সৈনিকদেরও অংশগ্রহণ ছিল। এত বিস্তৃত জনসম্পৃক্ততা থাকার পরও বিএনপি এই গণ-অভ্যুত্থানকে বিপ্লব হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চায় না। সামরিক আইনের মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে পরে সেগুলোকে পুরোনো সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা ছিল একটি বড় ভুল।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান দেশের মানুষকে ‘বাকশাল টু’ থেকে মুক্তি দিয়েছে এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিসর উন্মুক্ত করেছে। বিএনপির মতো দলগুলো নিজেদের মতো করে ইতিহাসের মালিকানা দাবি করতে পারলেও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মালিকানা একক কোনো দলের হতে পারে না। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ ‘বাকশাল টু’ থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন হাসনাত বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার সুযোগ এবং বাক্স্বাধীনতার পরিসর উন্মুক্ত হয়েছে।

সভায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, তৎকালীন সময়ে জিয়াউর রহমানের আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলনের উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক পুনর্বাসনে পরিণত হয়েছিল। সেই ভুলের অন্যতম কারণ ছিল ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দলটির শাসনামলের অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত না করা। তিনি বিএনপিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, একই ভুল যেন দ্বিতীয়বার না করা হয়। সারোয়ার তুষার আরও যোগ করেন, জিয়াউর রহমানের অবদান থাকলেও তাঁর শাসনামলের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কিছু দুর্বলতা বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে দেয়নি।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির মিডিয়া সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত। সভায় আরও বক্তব্য দেন লেখক ইমরুল হাসান, এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক এবং স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মনজিলা ঝুমা।

শেয়ার করুন