২১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকের বিরুদ্ধে আমার লড়াই চলবে: ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন

প্রকাশ:

মাদক কারবারের পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। শুক্রবার রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইশরাক হোসেন জোর দিয়ে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে তার এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তখন কিছু কুচক্রী মহল সেই দলের নাম ব্যবহার করে মাদকের হটস্পটগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের রাজনীতি করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই দাবি করে তিনি বলেন, এদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

সেমিনারে সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, সীমান্ত দিয়ে নানা কৌশলে সারাদেশে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ কাজে কিছু নামকরা পরিবহণ এবং ভূঁইফোড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিও জড়িত। তিনি বলেন, একটি চক্র ভূ-রাজনীতিকে কাজে লাগিয়ে মাদক ছড়িয়ে দিয়ে জাতি ও সমাজ ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্র করছে। মাদকের কুপ্রভাবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে জঘন্য অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ মূল প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশে মাদকের সহজলভ্যতা এর ভয়াবহ বিস্তারের মূল কারণ। ইয়াবা এখন শহর থেকে গ্রামগঞ্জ ও পাড়া-মহল্লায় মহামারি আকার ধারণ করেছে। অনলাইনে অর্ডার করলেই ঘরে বসে মিলছে মাদক। তিনি আরও বলেন, মাদক ও অপরাধ একে অপরের পরিপূরক। মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় বদলে ফেলে। সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করলেও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে মাদক কারবারিরা যাতে কোনো সুবিধা নিতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ, মনোচিকিৎসা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ মোহিত কামাল, একাত্তর টিভির বার্তা প্রধান শাহ আজিজুর রহমান কিরণ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. মুন্না হুসাইন ও ইডেন মহিলা কলেজ বিতর্ক দলের দলনেতা মাসনুন নাবিলা আলম।

শেয়ার করুন