১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমমন্ত্রী: শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে

প্রকাশ:

শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো সরকারের নজরে আনা হয়েছে এবং মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে এর গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বুধবার (৪ নভেম্বর) শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মজুরি বোর্ডের সুপারিশ উভয় পক্ষই মেনে নেবে, কারণ এতে দুই পক্ষেরই প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। পাশাপাশি, আগামী চার দিনের মধ্যে বোর্ডের পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি জানান। এসব দাবি নিয়ে মজুরি বোর্ডে আলোচনা হবে এবং আলোচনার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। মজুরি নির্ধারণের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, শনিবার রাতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর রোববার দুপুর ১২টার আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। যথাযথ সাড়া না পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

গাজীপুরে সাম্প্রতিক শ্রমিক নিহতের ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, শ্রম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ওই পরিবারকে তাৎক্ষণিক এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকবে সরকার।

শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে টঙ্গীতে ১০০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর সারসংক্ষেপ অনুমোদিত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হবে।

চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের আন্তরিকতাকে স্বাগত জানিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দ এবং শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অল্প সময়ের নোটিশে আলোচনায় অংশ নিয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। কারখানাগুলো দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে উভয় পক্ষের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা জরুরি। একইভাবে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারাও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় উপস্থিত হয়েছেন।

শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, গার্মেন্টস শিল্পকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ সংগঠনের নেতাদের মাধ্যমে অথবা লিখিতভাবে দাবি জানাতে হবে। কোনো রকম পূর্ব আলোচনা ছাড়া সরাসরি কর্মবিরতি বা শিল্পে অচলাবস্থা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকতে হবে।

কারখানা সচল রাখার আহ্বানের পাশাপাশি যারা অকারণে কারাবরণ করেছেন তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আশ্বাস দেন শ্রমমন্ত্রী। তবে ভিডিও ফুটেজে সহিংসতায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পকারখানা সচল থাকলেই উৎপাদন ও আয় বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির পথ সুগম করবে। মালিকদের প্রতি তিনি বন্ধ ও ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলো দ্রুত খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

শ্রমিকদের কাজে ফেরার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে শ্রমিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারি সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শেয়ার করুন