১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনা মন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

প্রকাশ:

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাক্ষাতকালে চীনা মন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রীও প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানান।

বৈঠকে লিউ হাইশিং জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন যুগের সূচনা নিয়ে একটি যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

এই ঘোষণার আলোকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় চীনের পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতি তিনি আস্থা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের শক্ত ভিত্তি রচিত হয়েছিল। দুই দেশের জনগণের মধ্যে এই সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গভীর। বর্তমান নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা আরও সুদৃঢ়ভাবে পৌঁছে দেওয়া। তার মতে, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে এই বন্ধুত্ব আরও প্রাণবন্ত ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠবে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর এই কর্মসূচি দেশে কৃষিবিল্পবে বড় ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে, যা কৃষকের ভাগ্যোন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় অবদান রাখবে। পরবর্তী সময়ে এ কর্মসূচি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

দলীয় পর্যায়ের সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর ও আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চীনের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার কারণে সৃষ্ট আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীনের জোরালো সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে লিউ হাইশিং বলেন, চীন রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত আছে এবং প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ তিনি প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে অবহিত করবেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। অন্যদিকে, চীনা দলের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন এবং সিপিসি’র মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

শেয়ার করুন