১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ: নার্সের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ

প্রকাশ:

রাজবাড়ীতে স্বামীর জমা রাখতে দেওয়া ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় মোছা. তানিয়া খাতুন (২২) নামের এক নার্সের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ নভেম্বর) রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আসামি তানিয়া খাতুন বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে এবং রিলায়েন্স জেনারেল অ্যান্ড রেনাল হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তানিয়া খাতুনের পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের সময়ে কনেকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ব্যাংকে জমা রাখার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে ৬ লাখ টাকা দেন সাখাওয়াত। তবে তানিয়া ওই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেই নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ ওঠে।

টাকা না পেয়ে এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি স্বামী সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। পুলিশ তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা রয়েছে উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পরোয়ানা জারির পর তানিয়া খাতুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপসের শর্তে জামিন পেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে লিগ্যাল এইড এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যস্থতায় একাধিকবার মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আসামি স্বামীর সঙ্গে আর সংসার করতে রাজি না হওয়ায় আপস প্রক্রিয়া অকার্যকর হয়ে পড়ে। সোমবার নির্ধারিত তারিখে পুনরায় জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

তানিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম আইনি পদক্ষেপ নয়। এর আগে তাঁর স্বামী ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে আরেকটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলাতেও তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং ১৬ দিন কারাভোগ শেষে তিনি জামিনে মুক্তি পান। ওই মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

বাদী সাখাওয়াত হোসেন জানান, সুন্দর সংসারের আশায় বিয়ে করলেও বিয়ের পর থেকে যৌতুকের কারণে প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে নির্যাতিত হতে হয়েছে। স্থানীয় ও সামাজিক সালিসে বিষয়টি সুরাহা করতে ব্যর্থ হয়েই শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ মো. মেহেদী হাসান আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে অর্থ আত্মসাতের এসব অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে আসামিপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাঁকে নানা অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি স্থানীয় ও সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও সফল হননি।

শেয়ার করুন