বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে জীবনবৃত্তান্তে বা সিভিতে মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (১৮ অক্টোবর) আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।
এর আগে গত বছরের ২০ মার্চ পুতুলের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছিল দুদক। এর মধ্যে একটি মামলা ছিল ডব্লিউএইচওতে নিয়োগের সময় মিথ্যা তথ্য দেওয়া সংক্রান্ত, অন্যটি তার পরিচালিত সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ২০টি ব্যাংক হিসাব থেকে ৩৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে তদন্ত শেষে কমিশন এই চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২০ মার্চ ডব্লিউএইচওতে নিয়োগ পেতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ২০টি ব্যাংক থেকে ৩৩ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগে পুতুলের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক।
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক পদে আবেদনের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), যা এখন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত, সেখানে ‘অনারারি স্পেশালিস্ট’ বা ‘এক্সপার্ট’ হিসেবে কাজ করার যে তথ্য দিয়েছিলেন তা মিথ্যা ছিল। এছাড়া তিনি সেখানে শিক্ষকতা বা শিক্ষা ম্যানুয়াল পর্যালোচনার কাজে যুক্ত ছিলেন বলেও যে দাবি করেছিলেন, তাও ভুয়া বলে উঠে এসেছে দুদকের তদন্তে। দুদকের এজাহারে বলা হয়েছে, সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ওরফে সায়মা ২০২৩ সালে ডব্লিউএইচওতে আবেদনের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা কিংবা শিক্ষা ম্যানুয়াল তৈরি বা পর্যালোচনার কাজে অংশ নেওয়ার বিষয়ে মিথ্যা দাবি। ওই দায়িত্বে থাকাকালে ২০২৩ সালে ডব্লিউএইচওতে জমা দেওয়া সিভিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা এবং শিক্ষা ম্যানুয়াল পর্যালোচনাসংক্রান্ত কাজে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অটিজম ও স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যাবিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন পুতুল। সেই দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন। দুদকের অভিযোগ, মূলত ওই দায়িত্বের আড়ালেই তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের প্রভাব খাটিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়ার নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ না দিয়েই ডব্লিউএইচওর ওই উচ্চপদে নিজের নিয়োগ নিশ্চিত করেন।
দুদকের দাবি, সিভিতে মিথ্যা তথ্য প্রদান ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি যে অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন, তা দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই কমিশন তাকে অভিযুক্ত করে বিচারিক আদালতে চার্জশিট দাখিলের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। পরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে এসব তথ্য পাঠানো হয়।





