১৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে শুরু হলো পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন

প্রকাশ:

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। মন্ত্রী জানান, আল্লাহর রহমতে দুপুর ১২টায় দ্বিতীয় দফায় পারমাণবিক বিক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথকে প্রশস্ত করেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের পরবর্তী ধাপের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া যায়। কেন্দ্রটির চুল্লির ভেতরে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু এবং ভৌত পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই এই অনুমতি দেওয়া হয়। পারমাণবিক নিরাপত্তার বিধি অনুযায়ী, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরুর আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সবুজ সংকেত নেওয়া বাধ্যতামূলক।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ‘পাওয়ার স্টার্ট’ পর্যায়ে শুরুতে খুব সামান্য মাত্রায় শক্তি উৎপাদন করা হবে। পর্যায়ক্রমে চুল্লির ক্ষমতা বাড়িয়ে শীতলীকরণ ব্যবস্থা, টারবাইন, জেনারেটর ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। যখন চুল্লির উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছাবে, তখন জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে জেনারেটর যুক্ত করে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এই পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির যাত্রা সহজ ছিল না। নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। তবে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তায় সেই সমস্যা নিরসনের পর ৮ অক্টোবর প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন মেলে। কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে। দুটি ইউনিট চালু হলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

প্রকল্পের ব্যয় ও সময়সীমা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। শুরুতে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও তা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নসহ নানা কারণে ব্যয় বেড়ে বর্তমানে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়া দেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষামূলক উৎপাদনের এই প্রক্রিয়া কয়েক মাস চলতে পারে। চুল্লির প্রতিটি যন্ত্রের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সব ধাপ সফলভাবে পার হওয়ার পরই বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

শেয়ার করুন