৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এখন চূড়ান্ত উত্তেজনার সেমিফাইনাল পর্বে পৌঁছে গেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম ড্র পদ্ধতি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যেন র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালের আগে একে অপরের মুখোমুখি না হয়। নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড এখন শেষ চারে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।
আগামীকাল মঙ্গলবার ডালাসের উপকণ্ঠ আর্লিংটনে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন। ম্যাচটি ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে, যেখানে স্পেন ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয়ে শিরোপা জিতেছিল। সেই ম্যাচে ১৭তম জন্মদিনের আগেই দুর্দান্ত গোল করেছিলেন স্প্যানিশ তরুণ লামিন ইয়ামাল, যার ওপর এবারের সেমিফাইনালেও ভরসা করছে স্পেন। অন্যদিকে, ফ্রান্সের প্রাণভোমরা কিলিয়ান এমবাপ্পে দারুণ ছন্দে রয়েছেন। মরক্কোর বিপক্ষে গোলসহ এই বিশ্বকাপে তিনি ইতিমধ্যে আটটি গোল করেছেন। তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির সমান অবস্থানে আছেন এবং বিশ্বকাপে মেসির সর্বকালের ২১ গোলের রেকর্ড থেকে মাত্র এক গোল দূরে রয়েছেন।
পরদিন বুধবার আটলান্টায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে। গত শনিবার রাতে কানসাস সিটিতে অতিরিক্ত সময়ে ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে খেলা আগের ছয়টি সেমিফাইনালেই জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের এটি ২০৬তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ হতে যাচ্ছে, তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই হবে তার প্রথম ম্যাচ।
ইংল্যান্ড ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে। শনিবার মিয়ামিতে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হারানোর ম্যাচে জোড়া গোল করে নায়ক হয়েছিলেন জুড বেলিংহাম। হ্যারি কেন ও বেলিংহামের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ডের জন্য এটি বিশ্বকাপের চতুর্থ সেমিফাইনাল। এর আগে ১৯৬৬, ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে তারা সেমিফাইনাল খেললেও শেষ দুইবার হেরেছিল। বুধবারের এই ম্যাচটি ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালের ঠিক ৪০ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে দিয়েগো ম্যারাডোনার দুই গোলে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।


