১২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫-১৭ নভেম্বর দ্বিতীয় গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো আয়োজন করবে ইপিবি

প্রকাশ:

দেশের রপ্তানি পণ্যের পরিসর বাড়ানো, আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’। আগামী ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর রাজধানীর পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে (বিসিএফইসি) তিন দিনব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। এ সম্প্রসারিত আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পভিত্তির বৈচিত্র্য তুলে ধরা এবং প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের বাইরেও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজারে প্রবেশাধিকার, বাণিজ্য সুবিধা, নিয়ন্ত্রক শর্ত এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এসব সেমিনারে আলোচনা হবে। নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বিদ্যমান বাজারে অবস্থান সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের শর্ত ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড সম্পর্কে রপ্তানিকারকদের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি উৎপাদক, রপ্তানিকারক, ক্রেতা ও বাণিজ্য প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। ইপিবির মহাপরিচালক-১ মোহাম্মদ শাফায়াত উল্লাহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবং মেলা ও প্রদর্শনী বিভাগের পরিচালক মো. ওয়ারেস হোসেন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

এবারের প্রদর্শনীতে রপ্তানিমুখী ১২টি খাতের দুই শতাধিক স্টল থাকবে। গত বছর প্রথমবারের আয়োজনে মাত্র আটটি খাতের পণ্য প্রদর্শিত হয়েছিল। তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকারের গুরুত্ব দেওয়ার চিত্র এই আয়োজনে ফুটে উঠেছে। হাসান আরিফ বলেন, এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের উৎপাদকদের সঙ্গে বিদেশি ক্রেতাদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের একটি বড় সুযোগ। এর মাধ্যমে নতুন বাজার সন্ধান ও দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি সহজতর হবে।

বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি সংকটের মতো চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় ধরে রেখেছে। এই অর্জন দেশের উদ্যোক্তাদের দৃঢ়তার পরিচয় দেয়। এই এক্সপো থেকে উৎপাদকরা নতুন ব্যবসার সুযোগ খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য তুলে ধরার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রদর্শনীতে যেসব খাতের পণ্য থাকবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য ও হস্তশিল্প, প্লাস্টিক ও রান্নাঘরের সরঞ্জাম, আসবাবপত্র, ওষুধ, কৃষি ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, কাগজ ও মোড়কজাতকরণ, মোটরযান, হালকা প্রকৌশল এবং সিরামিক টেবিলওয়্যার। গতবার ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের ১৬৪টি স্টল থাকলেও এবার স্টলের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সাধারণ বাণিজ্য মেলার বিপরীতে এই আয়োজন মূলত ব্যবসা-টু-ব্যবসা (বি-টু-বি) যোগাযোগের ওপর জোর দিচ্ছে।

বিদেশি ক্রেতাদের বাংলাদেশে সফর সুবিধাজনক করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ইপিবি। নিবন্ধিত বিদেশি প্রতিনিধিরা ঢাকার নির্বাচিত পাঁচ তারকা হোটেলে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাবেন। এছাড়া জাতীয় ও বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে মূল ভাড়ার ওপর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতারা প্রদর্শনী শুরুর আগেই অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক বৈঠকের সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। এ প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্য প্রদর্শন, পণ্যের ধরন ও মূল্য নিয়ে আলোচনা, সরবরাহের ব্যবস্থা নির্ধারণ এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সহযোগিতার সুযোগ খুঁজতে পারবে।

আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকায় ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল এক্সপোজিশন’ (ব্যাটেক্সপো) অনুষ্ঠিত হবে। পরপর দুটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী থাকায় বিদেশি ক্রেতারা এক সফরেই বাংলাদেশের একাধিক শিল্প খাতের সক্ষমতা দেখার সুযোগ পাবেন। এছাড়াও আগ্রহী ক্রেতাদের কারখানা পরিদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হবে, যাতে তারা ওষুধ ও তৈরি পোশাকশিল্পের মান স্বচক্ষে যাচাই করতে পারেন।

মেলায় আলোচনার জন্য বেশ কয়েকটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তী প্রস্তুতি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ), যুক্তরাজ্যের ডিসিটিএস এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

প্রদর্শনী সফল করতে ইউরোপের পর্তুগাল, ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্য; এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আফগানিস্তান এবং আমেরিকার আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ইপিবি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাথমিক ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

শেয়ার করুন