১১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

প্রকাশ:

সম্প্রতি আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ বিষয়ক বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পাঠানো এক বার্তায় সদর দপ্তর জানায়, সকালে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের একটি শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতেই রূপক অর্থে এই শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো ধরনের শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে তিনি এমন মন্তব্য করেননি বলে দাবি করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

ওই অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেছিলেন, সরকার অনুমতি দিলে এবং প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কে আসবে, আপা কবে আসবে বা কী হবে—তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেখার বিষয় নয়; বরং আইন ও সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনই তাদের মূল লক্ষ্য। পুলিশ সদর দপ্তরের ভাষ্যমতে, অপরাধ দমন, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তাই পুলিশের মৌলিক দায়িত্ব।

পুলিশ সদর দপ্তর তাদের ব্যাখ্যায় জানায়, রাষ্ট্রপ্রধানের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে পুলিশকে প্রায়ই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধী ও সংঘবদ্ধ চক্র সরাসরি পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চারজন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৩৭০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন।

বার্তায় আরও বলা হয়, প্রচলিত দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১ অনুযায়ী পুলিশের আত্মরক্ষার আইনগত অধিকার রয়েছে।

মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজসহ জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ অপরাধীদের মোকাবিলায় পুলিশ যে অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে, আইজিপি মূলত সেই বিষয়টিই স্পষ্ট করতে চেয়েছেন। এছাড়া একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির করা মন্তব্যের বিষয়টিও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, ওই মন্তব্যটি অসাবধানতাবশত হয়েছে এবং সাংবাদিকদের সম্পর্কে কোনো ঢালাও বিরূপ মন্তব্য করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। সবশেষে পুলিশ সদর দপ্তর আশ্বস্ত করেছে যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে পেশাদারত্বের সাথে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ।

শেয়ার করুন