২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে আর মাত্র দুই মাস বাকি। এর মধ্যেই পাঠ্য বই নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা। পাঠ্য বইয়ে রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগ ও বিতর্ককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে এরই মধ্যে বিতরণ হওয়া প্রায় ২০ লাখ বই ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব বই নতুন করে সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণ করতে হচ্ছে, যার ফলে সরকারের প্রায় ১৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি বই ছাপাতে খরচ হয় প্রায় ৫৭ টাকা। কিন্তু এরই মধ্যে পাঠ্য বই নিয়ে বেধেছে তালগোল। সংশোধনের পর আবার বিতরণ হবে পাঠ্য বইগুলো। বিতর্কের পর এনসিটিবি প্রথমে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় প্রতীক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়।
চলমান এই সংকটের প্রেক্ষিতে সোমবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ৯ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলি হওয়া এই কর্মকর্তাদের আগামী ২৯শে অক্টোবরের মধ্যেই বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। এর আগে রোববার এনসিটিবি’র গবেষণা কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়। তিনি ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন। আগের দিন বদলি করা হয়েছিল আরেক কর্মকর্তাকে। পরবর্তী সময়ে বিষয়গুলো আরও পরিমার্জন করা হবে। তারা সবাই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে ওইদিন অপরাহ্নে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।
বইয়ে বিতর্কিত প্রতীক ব্যবহারের বিষয়ে এনসিটিবি’র সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান জানান, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অংশে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীক হওয়ায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তরে এখন থেকে কোনো প্রতীক বা আইকন রাখা হবে না। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে এই সংশোধিত বই মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এনসিটিবি। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এই সংশোধন কার্যক্রম শেষ করা এনসিটিবি’র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু আইসিটি বই নয়, প্রাথমিক স্তরের বাংলা, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বইয়ে ‘নৌকা’র ছবি থাকা নিয়েও বিতর্ক উঠেছে। তথ্য অনুযায়ী, প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে মোট ৮২টি নৌকার ছবি রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছে যে, এই ছবিগুলো ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইগুলোতেও ছিল। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে সেটির পরিবর্তে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়।
এদিকে এনসিটিবি’র ভেতরেই এই বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কর্মকর্তাদের একাংশের দাবি, যারা বাংলা বইয়ে নৌকার ছবি ব্যবহারের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এই বদলি প্রসঙ্গে এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন, বদলি বিষয়টি সম্পূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। তাদের কেন বদলি করা হয়েছে, সে সম্পর্কে নিজের কাছে কোনো তথ্য নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।





