৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কানাডায় অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে ৫ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ:

কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় জালিয়াতির মাধ্যমে জালিয়াতিপূর্ণ পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজন বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দেশটির সীমান্ত সেবা সংস্থা (সিবিএসএ)। এ ঘটনায় চারজনকে ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির করা হয়। অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে চারজন হলেন রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া এবং কাজী নাফিজ আলম। পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এসব অভিযোগ আদালতের যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত অনুমোদনসাপেক্ষ। ২২ অক্টোবর রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া এবং কাজী নাফিজ আলম ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

তদন্তের সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের ৩রা জুলাই কুইবেক প্রদেশের মার্সিয়ের এলাকায় একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে অভিযানের মাধ্যমে। সিবিএসএ কর্মকর্তাদের সাথে স্থানীয় পৌরসভা পুলিশ ও দমকল বাহিনীর প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ওই পরিদর্শনে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বেশ কিছু আলামত পাওয়ার পর আগস্ট মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে, ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য কানাডার অস্থায়ী বাসিন্দা ভিসার (টিআরভি) ২৪৩টি আবেদন জমা দেয়া হয়েছিল। আবেদনকারীদের কানাডার নাগরিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের আতিথ্য গ্রহণের সুযোগ দেখিয়ে জালিয়াতির এই চক্রটি কাজ করছিল। অভিযানে মার্সিয়ের পৌরসভার পুলিশ ও দমকল বিভাগের কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। এ সময় বাসাটিতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টি যাচাই করা হয়। পরিদর্শনের সময় অভিবাসনসংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান না মানার বেশ কিছু লক্ষণ দেখতে পান তারা। এসব আবেদনের উদ্দেশ্য ছিল, আবেদনকারীরা কানাডার নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেয়া ব্যক্তিদের আতিথ্য গ্রহণ করে দেশটিতে ভ্রমণ করবেন। তদন্তকারীরা দেখতে পান, ওই বাংলাদেশিদের ভিসা পাইয়ে দিতে একটি সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। পরিকল্পনাটির ব্যাপকতা ও জটিলতা বিবেচনায় নিয়ে তদন্তকারীরা ৭৯টি টিআরভি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেন।

তদন্তের খাতিরে ২০২৫ সালের ৩রা জুন কুইবেক ও অন্টারিও প্রদেশে চারটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করে সিবিএসএ। জব্দকৃত নথি ও কম্পিউটার হার্ডওয়্যার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জালিয়াতির সন্দেহজনক ৭৯টি আবেদনকে তদন্তকারীরা বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিনটি প্রধান অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত, কানাডায় প্রবেশে সহায়তার ষড়যন্ত্র; যা অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইনের (আইআরপিএ) ১১৭(১) ও ১১৭(৩) ধারায় অপরাধ। দ্বিতীয়ত, অভিবাসন আবেদনে মিথ্যা তথ্য প্রদানে সহায়তা করা, যা ১২৬ ও ১২৮(ক) ধারায় নিষিদ্ধ। তৃতীয়ত, সরাসরি অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে প্ররোচনা ও সহায়তা প্রদান করা, যা আইনের ১৩১ ও ১১৭(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য। আইআরপিএর ১২৬ ধারায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ এবং ১২৮(ক) অনুচ্ছেদে এর অপরাধসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। এ সময় সংগৃহীত নথিপত্র ও কম্পিউটার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন আলামতে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পাঁচ ব্যক্তির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

কানাডার জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারী এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, অভিবাসন প্রক্রিয়া সততা ও আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। যারা জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের অভিবাসন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে। সিবিএসএর কুইবেক অঞ্চলের আঞ্চলিক মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের বলেন, অপরাধ তদন্তকারীদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা কানাডার অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চক্রটিকে শনাক্ত ও তাদের কার্যক্রম বন্ধে সিবিএসএ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যারা জালিয়াতির উদ্দেশ্যে আমাদের ব্যবস্থার সুযোগ নিতে বা এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে চায়, তাদের গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। আমাদের সীমান্তের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি সিবিএসএর কর্মীদের ধন্যবাদ জানাই।

শেয়ার করুন